নরসিংদী জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা সদস্য, জেলা তাঁতীলীগের সাবেক আহ্বায়ক ও অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের একাধিকবারের সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহমেদ দুলু বলেছেন, আমি আজীবন বিএনপি করেই মরতে চাই। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রায়পুরা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন তিনি।


আলী আহমেদ দুলু বলেন, ‘দুইবার আমাকে রাজু সাহেব (আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক এমপি ও মন্ত্রী) জোর কইরা ফেল করাইছে এবং আমাকে হয়রানি করেছে। আমাকে নির্বাচন অফিসে আটকিয়ে রেখেছে, অনেক হয়রানি হইছি। আমি কিন্তু কোনো দল করিনাই। আমি আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিলাম।’



তিনি আরও বলেন, ‘আমি একসময় ছাত্রদল করতাম। ৮১ সাল থেকে ছাত্রদল করতে গিয়ে আমি যখন চেয়ারম্যান হইলাম, তখন যে দল যখন ক্ষমতায় আসছে, সেই দলের পাশে ব্যালেন্স করে চলে আসছি। কিন্তু অরিজিনালি আমি বিএনপি ছোটবেলা থেকে করছি। আমার এলাকাতে এই যে আমার ভাইয়েরা আছেন, এরা সবাই বিএনপির লোক।’


বিএনপিতে যোগদানের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘অরিজিনালি আমি বিএনপিতে ছিলাম, আমি ছাত্রদল করেছিলাম। এখন আমার ঘরে ফিরে আসছি। এই বিএনপিতে আজকে আবার নতুন করে প্রেস কনফারেন্সের মাধ্যমে বিএনপিতে যোগদান করলাম। আজকে থেকে আমি সব এমপি মন্ত্রী যারা আছেন সবার সঙ্গেই ফুল নিয়ে দেখা করব। বিএনপি করেছিলাম, বিএনপিতে এসেছি এবং বাকি জীবন বিএনপি করেই আমি থাকতে চাই।’


আলী আহমেদ দুলুর এ বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, আলী আহমেদ দুলু রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগের পরিচয়ে একাধিকবার অলিপুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক