বিদেশের মাটিতে জীবিকার সন্ধানে যাওয়া সিলেটের তরুণ রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের অকাল মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারি যেন থামছে না। বিশেষকরে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে প্রবাসে থাকা স্বজনদেরকে নিয়ে দেশে থাকা পরিবারের সদস্যরা প্রতিনিয়ত থাকছেন উৎকন্ঠার মধ্যে। সম্প্রতি বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এদের মধ্যে ৫জন কাতারে, ৩জন সৌদি আরবে, ১জন পর্তুগালে মারা যান। ইতোমধ্যে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার সিলেটের কানাইঘাটের ৫ যুবকের মরদেরহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে নিয়ে আসা হলেও অন্যদের মরদেহ দেশে এখনও আসেনি। তাদের মরদেহগুলো দেশে নিয়ে আসার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা যায়।
জানা যায়, গত ২১ জুন কাতারের শাহানিয়া এলাকায় সংঘটিত এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়জন নিহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনই সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা।
নিহতরা হলেন- ঝিংগাবাড়ী ইউনিয়নের আমরপুর গ্রামের মৃত আব্দুন নূরের ছেলে জিবাল উদ্দিন, মাঝতালুক গ্রামের সিরাজ উদ্দিনের ছেলে জসিম উদ্দিন, আগতালুক গ্রামের সেলিম আহমদের ছেলে মস্তাক আহমদ, একই গ্রামের মৃত মড়া মিয়ার ছেলে জুবায়ের আহমদ এবং দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের নিজ গাছবাড়ী গ্রামের বাহার উদ্দিনের ছেলে কাদের আহমদ। গত ৩০ জুন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশে নিয়ে আসা হয় রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ।
অপরদিকে, পর্তুগালের সেতুবালের আলমেদায় সড়ক দুর্ঘটনায় মো. শামসুল ইসলাম কামরান (২৫) নামের এক যুবক নিহত হয়েছেন। তার বাড়ি সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায়। গত শনিবার (৪ জুলাই) পর্তুগাল সময় আনুমানিক রাত ৯টার দিকে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে মুমূর্ষু অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় আলমেদা হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ জুলাই বিকাল সাড়ে ৩টায় তার মৃত্যু হয়।
এদিকে, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অলাইয়া এলাকার একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় অসাবধানতাবশত লিফটের ফাঁকা জায়গা দিয়ে নিচে পড়ে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের দুই প্রবাসীর মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ১নং ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের পাড়ুয়া গ্রামের মাসুক মিয়ার ছেলে জয় আহমদ এবং খাগাইল (ডলাইরগাঁও) গ্রামের আব্দুল হাফিজের ছেলে মোহাম্মদ মোতাহার হোসাইন। শনিবার (৪ জুলাই) বিকালে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
জানা গেছে, নিহত দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তারা রিয়াদের অলাইয়া এলাকায় একটি ভবনের লিফট শ্যাফটে কাজ করছিলেন এবং এ সময় হঠাৎ নিচে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
এছাড়া, সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার বাসিন্দা তারেক আহমদ (২৫)। সে কানাইঘাট উপজেলার মুক্তাপুর গ্রামের ফয়েজ আহমদের ছেলে। শুক্রবার ৩ জুলাই বিকেলে সৌদি আরবের জেদ্দার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২ জুলাই কর্মস্থলে দায়িত্বপালন শেষে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টার দিকে জেদ্দায় গাড়ি চালানো শিখছিলেন তারেক। এ সময় তিনি সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহকর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ জুলাই বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
সিলেটের হেতিমগঞ্জের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম। ৮ বছর থেকে সৌদি আরবে বসবাস করেন। এরমধ্যে দেশে এসেছেন চারবার। জহিরুলের মা সুফিয়া খানম জানান, ছেলে সৌদি আরবে গাড়ি চালায়। তার আয় থেকেই আমারা দেশে চলছি। ২ বোনের লেখাপড়া, আমার চিকিৎসার খরচসহ ঘরের খরচের টাকা প্রতিমাসে পাঠায়। সবসময় ছেলেকে নিয়ে চিন্তায় থাকি। কখন যেন বিদেশের মাটিতে কি হয়। বিদেশের মাঠিতে থাকা ছেলের জন্য দোয়া ছাড়া আর কিছুই করতে পারিনা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি




