সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদ (১৬) হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদ (২৩) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সিলেটের কানাইঘাট চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণের পর আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, সায়েম আহমদ পৌরসভার রায়গড় গ্রামের এনাম উদ্দিন উরফে ভান্ডারীর ছেলে। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই সে পলাতক ছিল।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আহাদ হত্যা মামলার প্রধান আসামি সায়েম আহমদকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক চৌকস দল অভিযান পরিচালনা করছিল। নিজের অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর গ্রেফতার এড়াতে সে আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। মামলার অধিকতর তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলে জানান ওসি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে কানাইঘাট উপজেলা রোডের তাজ উদ্দিন (তাজু) পরিচালিত একটি ওয়ার্কশপে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে সায়েম আহমদ স্ক্রু-ড্রাইভার দিয়ে কিশোর শ্রমিক আহাদ আহমদের মাথায় আঘাত করেন। এতে আহাদ গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন সে মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের চাচা রশিক উদ্দিন বাদী হয়ে কানাইঘাট থানায় সায়েম আহমদসহ তিনজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত আহাদ আহমদ পৌরসভার মহেষপুর গ্রামের একটি টিনশেডের বাসায় তার দুই বোন ও নানার সঙ্গে বসবাস করতো। প্রায় এক বছর আগে তার মা মারা যান। সে পৌরসভার উত্তর দলইমাটি গ্রামের রিকশাচালক সালেহ আহমদের ছেলে । পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে অল্প বয়সেই জীবিকার তাগিদে ওয়ার্কশপে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতো আহাদ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ মাহবুব/ এহিয়া/ ১৪




