সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গ্রামীণ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিতব্য একটি গ্রামীণ সড়কে  হেরিংবোন (এইচবিবি) ইটের সলিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম না মেনে নিম্নমানের ইট ব্যবহার এবং সঠিক পরিমাণ বালু না দিয়ে কাঁদার ওপর ইট বিছিয়ে সলিং করায় ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।


উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে গ্রামীণ মাটির রাস্তাসমূহ টেকসইকরণের লক্ষ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বরকত নগর এলাকায় ৫০০ মিটার কাঁচা রাস্তা হেরিংবোন (এইচবিবি) করণের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪১ লাখ টাকা। কার্যাদেশ পাওয়া 'মাইমুনা ট্রেডার্স' নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মাঠ পর্যায়ে কাজটি পরিচালনা করছেন সিদ্দিকুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।




‎স্থানীয়দের অভিযোগ, চলতি বছরের এপ্রিলের প্রথম দিকে কাজ শুরু করে গত জুনের শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নানামুখী জটিলতা দেখিয়ে বর্তমান অব্যাহত বৈরী আবহাওয়ায় ভরা জুলাই মাসেও কাজ সম্পন্ন হবে কি সন্দেহ রয়েছে। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট এবং এজিং তৈরিতেও ৩ নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে- ইটের নিচের বালুর স্তরে। সিডিউল অনুযায়ী পর্যাপ্ত বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও ঠিকাদার নামমাত্র বালু দিয়ে অধিকাংশ স্থানে সরাসরি কাঁদা মাটির ওপরই ইট বিছিয়ে দিয়েছেন।



‎এলাকাবাসীর দাবি, দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজশ ও তদারকির অভাবেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি পার পেয়ে যাচ্ছে। তদারকি প্রতিষ্ঠানের নজরদারি না থাকায় দায়িত্বপ্রাপ্তরা নিজের ইচ্ছেমতো দায়সারা কাজ করে বরাদ্দকৃত সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। অথচ ওই সড়কে বিভিন্ন যানবাহনসহ এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করেন। এভাবে কাঁদার ওপর নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা তৈরি করলে বর্তমান
বর্ষার শুরুতেই ধসে পড়বে এবং সরকারের পুরো টাকাই জলে যাবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাইমুনা ট্রেডার্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিদ্দিকুর রহমান কাজের সব অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে রাস্তায় নিম্নমানের এবং ভাঙা ইট ব্যবহারের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান।


‎অন্যদিকে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) লুৎফুর রহমান বলেন, "এলাকার পরিস্থিতি অনুযায়ী কাজের গতি ও ধরন হয়ে থাকে। এই এলাকার ভৌগোলিক পরিস্থিতি আপনারা জানেন। তবে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

‎সরকারি টাকার এমন অপচয় রোধে এবং টেকসই সড়ক বিনির্মাণ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকার সচেতন মহল।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/তাজুল/এসডি-১৫