ছবি: সিলেট ভিউ।

দীর্ঘদিন ধরে কিশোরীকে রাস্তাঘাটে দেখলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি, প্রেমের প্রস্তাব এবং নানা ধরনের উত্ত্যক্তের মাধ্যমে হয়রানি করে আসছিল যুবক। বিষয়টি কিশোরীর পিতা জানতে পেরে ওই যুবকের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করলে তখন যুবক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে কিশোরীকে নদীর ঘাট থেকে তুলে নৌকায় করে জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করে এবং ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯)।

 


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক রাত সোয়া ১২টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন মিরপুর ইউনিয়নের আমরারতল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার মাছিমপুর এলাকা থেকে ধনমিয়ার ছেলে আইয়ূব নুর (২০)।

 

ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে র‌্যাব জানায়, ভিকটিম ও অভিযুক্তরা সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানাধীন মাছিমপুর এলাকার বাসিন্দা। ১ নম্বর আসামি আইয়ূব নুর এলাকার রাস্তাঘাটে ভিকটিমকে দেখতে পেলে বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিত। দীর্ঘদিন ধরে ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে দেখলে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করত এবং প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে উত্ত্যক্ত করত। বিষয়টি ভিকটিমের পিতা জানতে পেরে অভিযুক্তের পরিবারের সদস্যদের অবহিত করলে আইয়ূব নুর ভিকটিম ও তার পিতার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিকটিম হাত-পা ধোয়ার উদ্দেশ্যে নদীর ঘাটে গেলে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওঁৎ পেতে থাকা ১ নম্বর আসামি অন্যান্য সহযোগীদের সহায়তায় তাকে জোরপূর্বক একটি নৌকায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

 

এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রুজুর পর আসামিদের গ্রেফতার ও ভিকটিমকে উদ্ধারের লক্ষ্যে র‌্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৯, সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের একটি আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১৫ মিনিটে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন মিরপুর ইউনিয়নের আমরারতল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানার মামলা নং-০৫, তারিখ ০৬/০৭/২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী-২০২৫)-এর ৭/৩০ ধারার মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর পলাতক আসামি আইয়ূব নুরকে গ্রেফতার করা হয়। একই সঙ্গে অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৯।

 

র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৯) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, ‘পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র‌্যাব-৯ এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৩