ছবি: সংগৃহিত

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, সিলেটের উন্নয়নের স্বার্থে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সিলেটের অসমাপ্ত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন সম্ভব।

 


শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত চালিবন্দর মহাশ্মশান কমপ্লেক্স ও নবনির্মিত কালী মন্দির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সিলেট সম্প্রীতির নগরী। এ অঞ্চলের মানুষ যুগ যুগ ধরে ধর্মীয় সহাবস্থান ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আসছেন। সেই ঐতিহ্য আজও সমানভাবে সমুজ্জ্বল। তিনি বলেন, অতীতেও সিলেটে সব ধর্মের উপাসনালয়ের উন্নয়নে কাজ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে তিনি সিলেটের উন্নয়নে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

 

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সিসিক প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, চালিবন্দর মহাশ্মশান কমপ্লেক্স শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি সিলেটের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, নান্দনিকতা এবং আধুনিক নগর উন্নয়নের একটি অনন্য সংযোজন। তিনি বলেন, এমন একটি দৃষ্টিনন্দন কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছে, যা দেখতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ এখানে আসবেন।

 

তিনি মহাশ্মশান কমপ্লেক্সের কালীমন্দিরে পুরোহিতসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের ঘোষণা দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান যাতে যুগের পর যুগ সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে পরিচালিত হতে পারে, সে জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। নগর উন্নয়ন ও সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে তিনি সর্বস্তরের নাগরিকের সহযোগিতা কামনা করেন।

 

চালিবন্দর মহাশ্মশান সংস্কার ও সংরক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট বেদানন্দ ভট্টাচার্যের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার মো. এনামুল হক, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেটে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাই কমিশনার অনিরুদ্ধ দাশ এবং রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রম, সিলেটের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ। স্বাগত বক্তব্য দেন শ্মশান সংস্কার ও সংরক্ষণ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মলয় পুরকায়স্থ।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সিলেট মহানগর শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা, ইসকন বাংলাদেশের সহ-সভাপতি শ্রীমৎ স্বামী ভক্তি অদ্বৈত নবদ্বীপ মহারাজ,  ভারতের সহকারী হাই কমিশনের সেকেন্ড সেক্রেটারি রাজেশ ভাটিয়া, সিটি কর্পোরেশনের সচিব মো. আশিক নূর, প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মো. আলী আকবর, সাবেক কাউন্সিলর শান্তনু দত্ত সন্তু, জিল্লুর রহমান উজ্জ্বল, দিবা রানী দে বাবলী, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দেব, প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা পদ্মাসন সিংহ, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চন্দ্র দাশ, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম, শ্মশান সংস্কার ও সংরক্ষণ কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/ইকে