বাংলাদেশের সাহিত্য, নাটক, চলচ্চিত্র ও জনপ্রিয় সংস্কৃতির ইতিহাসে এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের কাজ সময়ের সীমানা পেরিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে পড়েছে। ১৯ জুলাই তেমনই এক আবেগঘন দিন।

এদিন একদিকে স্মরণ করা হয় কিংবদন্তি কথাসাহিত্যিক ও নির্মাতা হুমায়ূন আহমেদকে, অন্যদিকে উদযাপিত হয় বাংলা চলচ্চিত্রের ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী, বহুমাত্রিক শিল্পী আফজাল হোসেন এবং রোমাঞ্চ সাহিত্যের অবিস্মরণীয় স্রষ্টা কাজী আনোয়ার হোসেনের জন্মদিন। চারজনের সৃষ্টিশীল অবদানকে সম্মান জানাতে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। বাংলা সাহিত্য ও নাটকের জগতে হুমায়ূন আহমেদ এক অনন্য বিস্ময়ের নাম। উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র—প্রতিটি মাধ্যমে তিনি সৃষ্টি করেছেন নিজস্ব ভাষা ও দর্শক। তার গল্পের চরিত্রগুলো আজও বাঙালির দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই তিনি পৃথিবী ছেড়ে গেলেও তার সৃষ্টি এখনো সমান জনপ্রিয়। তার প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে চ্যানেল আই আজ রাত ১টায় প্রচার করবে ‘তৃতীয় মাত্রা’-এর বিশেষ পর্ব। ফরিদুর রেজা সাগরের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন কবি হাসান হাফিজ, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম এবং অভিনেতা-চিকিৎসক ডা. এজাজুর রহমান। আলোচনায় উঠে আসবে হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টিকর্ম, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির নানা অজানা দিক।


একই দিনে জন্মদিন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী কবরীর। ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে জন্ম নেওয়া কবরীর আসল নাম ছিল মিনা পাল। মাত্র ১৩ বছর বয়সে ‘সুতরাং’ সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। ‘সুজন সখী’, ‘সারেং বউ’, ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, ‘নীল আকাশের নিচে’সহ তিন শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন গড়ে নেন। অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণ, প্রযোজনা ও রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ২০২১ সালে তার মৃত্যু হলেও পর্দায় তার উপস্থিতি আজও দর্শকদের কাছে সমান উজ্জ্বল। জন্মদিন উপলক্ষে সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হবে ‘মোহময়ী কবরী’, যেখানে সিনিয়র সাংবাদিক আবদুর রহমানের উপস্থাপনায় উঠে আসবে তার জীবন, সংগ্রাম ও অভিনয়জীবনের নানা অধ্যায়। আজই জন্মদিন বহুমাত্রিক শিল্পী আফজাল হোসেনেরও। ১৯৫৪ সালের ১৯ জুলাই সাতক্ষীরায় জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তি একাধারে অভিনেতা, নির্মাতা, লেখক ও চিত্রশিল্পী। মঞ্চনাটক দিয়ে যাত্রা শুরু করলেও ছোট পর্দার অসংখ্য জনপ্রিয় নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের অন্যতম সম্মানিত শিল্পী। বিজ্ঞাপন নির্মাণ, সাহিত্যচর্চা এবং চিত্রকলায়ও সমান দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। তার সংলাপ, অভিনয়শৈলী ও ব্যক্তিত্ব এখনো দর্শকের কাছে অনুকরণীয়। তাকে ঘিরে রাত ৮টা ২০ মিনিটে প্রচারিত হবে কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের উপস্থাপনায় বিশেষ অনুষ্ঠান ‘যুবকদ্বয় আজ’। একই দিনে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা রোমাঞ্চ সাহিত্যের কিংবদন্তি লেখক কাজী আনোয়ার হোসেনকেও। ‘মাসুদ রানা’ সিরিজের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাহিত্যে এক নতুন ধারা তৈরি করেছিলেন। তার সৃষ্টি শুধু বইয়ের পাতায় নয়, পাঠকের কল্পনার জগতেও স্থায়ী আসন করে নিয়েছে। সন্ধ্যা ৬টায় প্রচারিত হবে ইফতেখার মুনিম পরিচালিত তথ্যচিত্র ‘মাসুদ রানা’, যেখানে উঠে আসবে এই প্রখ্যাত লেখকের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও তার সৃষ্ট কালজয়ী চরিত্রের গল্প। একই দিনে চার গুণী ব্যক্তিত্বকে ঘিরে এমন আয়োজন কেবল একটি টেলিভিশন সূচি নয়; এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানানোর এক অনন্য উদ্যোগ। একজন শব্দ দিয়ে মানুষের হৃদয় জয় করেছেন, একজন রুপালি পর্দায়, একজন অভিনয় ও শিল্পকলার নানা মাধ্যমে, আরেকজন রোমাঞ্চ সাহিত্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তাদের সৃষ্টির আলো আজও সমান উজ্জ্বল। তাই ১৯ জুলাই শুধু ক্যালেন্ডারের একটি দিন নয়, এটি বাংলাদেশের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির চার উজ্জ্বল নক্ষত্রকে একসঙ্গে স্মরণ ও উদযাপনের দিন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৭