কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন সন্দেহভাজন ভাড়াটে খুনিসহ পাঁচ জনের পাঁচ দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
 

রবিবার (১৯ জুলাই) বিকালে জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক সঙ্গীতা ভট্টাচার্য্যের আদালতে তাদের হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বিচারক প্রত্যেকের  পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 


রিমান্ডে নেওয়া পাঁচ আসামি হলেন- বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২), একই উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭), কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) ও একই উপজেলার কাজীপাড়া গ্রামের মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)। শেষের দুজনকে হত্যাকারীদের স্পিডবোটে পালিয়ে যাওয়ার সহায়তা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।

আদালতের সরকারী নিবন্ধন কর্মকর্তা এএসআই সায়রা আক্তার রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘রিমান্ড শুনানির সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। আসামিপক্ষে কোনও আইনজীবী ছিলেন না।’
 

এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলায় তিন জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় বাসার সামনে বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
 

বাদী তসলিমা আক্তার চৌধুরী মামলার এজাহারে উল্লেখ করেন, নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় একদল সন্ত্রাসী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীর ওপর ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল, রামদা নিয়ে হামলা চালায়।

পুলিশ জানায়, মামলার এজাহারে উল্লেখিত তিন আসামির মধ্যে হেলাল ঘটনার দিন রাতেই স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হন। কিছুক্ষণ পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলমকে স্পিডবোটে পালিয়ে যাওয়ার সময় করিমগঞ্জের বালিখলা এলাকা থেকে আটক করে। স্পিডবোটযোগে পালিয়ে যেতে সহায়তা করায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে জাকির হোসেন ও আব্দুর রউফকে আটক করা হয়। হামলার সময় জাহাঙ্গীরের সঙ্গে থাকা বিএনপির কর্মী হাদিস মিয়া ঘটনাস্থলেই এক হামলাকারী হেলালকে চাপাতিসহ জাপটে ধরে ফেলেন। এ সময় হাদিস মিয়াও গুরুতর আহত হন।
 

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘স্পিডবোটের চালক আবদুর রউফ ও জাকির মিয়াকে হত্যাকারীদের পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ, পরিকল্পনাকারী এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত ছিলেন, সে বিষয়ে তথ্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা করা হবে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।’

শুক্রবার দুপুরে জুমার নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে অনুষ্ঠিত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাজায় অংশ নেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম। এ ছাড়া কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন অংশ নেন। জানাজা শেষে কাঠ বাজার সংলগ্ন পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৮