“টেকনোলজি, জাস্টিস এবং ইনস্টিটিউশনাল রেজিলিয়েন্স ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি, সিলেটে ১৭ ও ১৮ জুলাই ২০২৬ (শুক্র ও শনিবার) দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ন্যাশনাল ইন্টারডিসিপ্লিনারি কনফারেন্স অন সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস ২০২৬ (NICSDG-2026)।
মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (MURS)- এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি জাতীয় পর্যায়ে একটি অনন্য একাডেমিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়াও উক্ত কনফারেন্সে সকল গবেষণা পত্রের সারসংক্ষেপ নিয়ে "Book of Abstract of NICSDG-2026" প্রকাশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য উক্ত প্রকাশনার নিজস্ব Digital Object Identifiers -DOI (https://doi.org/10.5281/zenodo.21369523) রয়েছে। প্রকাশনাটি আরকাইভস ও গ্রন্থাগার অধিদপ্তর থেকে কপিরাইট এবং International Standard Book Number (ISBN): 978-984-37-0654-6 অর্জন করে।
প্রথম দিনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে কনফারেন্সের সূচনা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- একাডেমিক ও গবেষক প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান (সানওয়ে ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া)।
এছাড়াও প্রফেসর ড. আহমেদ সায়েম (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), এমইউ’র প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইশরাত ইবনে ইসমাইল, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খন্দকার মকসুদ আহমেদ, কনভেনার মো. জিয়াউর রহমান, কো-কনভেনার মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাদমান শাকিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকমণ্ডলী উপস্থিত ছিলেন।
পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত অধ্যাপকবৃন্দও উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখেন। তাঁদের অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা সম্মেলনের সূচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও স্মরণীয় করে তোলে। প্রত্যেক বক্তাই তরুণ গবেষকদের গবেষণার প্রতি আরও মনোযোগী ও নিষ্ঠাবান হওয়ার আহ্বান জানান এবং NICSDG-2026-এর মতো একটি জাতীয় একাডেমিক প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
প্রথম দিনের সবচেয়ে প্রতীক্ষিত পর্বটি ছিল প্রথম 'রিসার্চ কলোকিয়াম', যেখানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট একাডেমিক ও গবেষক প্রফেসর ড. সাইদুর রহমান। তাঁর বক্তব্য উপস্থিত গবেষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা ও উৎসাহের সঞ্চার করে।
তিনি বলেন, আজকের তরুণ মেধাবী মনগুলো যেভাবে গবেষণা সম্মেলনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে, তা দেখে মনে হচ্ছে বাংলাদেশের গবেষণার ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল। এই আগ্রহ, এই অনুসন্ধিৎসা এবং এই নিষ্ঠাই একদিন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক গবেষণার মানচিত্রে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে।রিসার্চ কলোকিয়াম শেষে প্রফেসর ড. সাইদুর রহমানকে MURS-এর পক্ষ থেকে একটি বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়।
বিরতি শেষে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম দিনের প্যারালেল সেশন। একাধিক কক্ষে একযোগে অনুষ্ঠিত এই সেশনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। গবেষণার বিষয়বস্তু, উপস্থাপনার মান এবং অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ সম্মেলনকে একটি প্রাণবন্ত একাডেমিক আয়োজনে পরিণত করে।
দ্বিতীয় দিনেও রেজিস্ট্রেশন ও কিট সংগ্রহের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। বিরতি শেষে শুরু হয় দিনের সবচেয়ে আলোচিত পর্ব, দ্বিতীয় রিসার্চ কলোকিয়াম, যেখানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গবেষক ও একাডেমিক প্রফেসর মো. মামুন হাবিব, পিএইচডি (ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ)। তাঁর বক্তব্য ছিল অত্যন্ত অনুপ্রেরণামূলক ও স্মরণীয়। তিনি জানান, তিনি জীবনে ১০০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেছেন, কিন্তু এই প্রথমবারের মতো তিনি এমন একটি সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন, যা শিক্ষকদের দিকনির্দেশনায়; এবং সম্পূর্ণরূপে শিক্ষার্থীদের দ্বারা আয়োজিত। তিনি বলেন, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি আজ প্রমাণ করেছে যে শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের একাডেমিক আয়োজন করতে সক্ষম। তাঁর এই মন্তব্য উপস্থিত সকলের মধ্যে গভীর অনুপ্রেরণা ও গর্বের অনুভূতি জাগিয়ে তোলে।
দ্বিতীয় রিসার্চ কলোকিয়ামের পর অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় দিনের প্যারালেল সেশন, যেখানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা তাঁদের গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। বিরতি শেষে শুরু হয় তৃতীয় রিসার্চ কলোকিয়াম, যেখানে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. সায়েম। তাঁর বক্তব্যও সম্মেলনে একটি নতুন মাত্রা যোগ করে।
বিরতি শেষে অনুষ্ঠিত হয় NICSDG-2026-এর সমাপনী অনুষ্ঠান, যা ছিল সম্মেলনের সবচেয়ে আবেগময় ও স্মরণীয় পর্ব। সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর মো. মামুন হাবিব, পিএইচডি, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি'র ট্রেজারার প্রফেসর মো. তাহের বিল্লাল খলিফা পিএইচডি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সৈয়দ নাকিব সাদী, কনভেনার মো. জিয়াউর রহমান, কো-কনভেনার মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাদমান শাকিব, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষকমণ্ডলী, সম্মানিত স্পনসরবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারীরা। এই পর্বে সম্মেলনের সেরা গবেষকদের 'বেস্ট প্রেজেন্টার অ্যাওয়ার্ড' প্রদান করা হয়, যা সম্মেলনের সার্বিক পরিবেশে এক অনন্য উৎসবমুখর আনন্দের সঞ্চার করে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধ্যায় আয়োজিত হয় গালা নাইট, যা সম্মেলনের দুই দিনের ক্লান্তি ও পরিশ্রমকে আনন্দ ও উৎসবে পরিণত করে।
সম্মেলনের স্পনসর হিসেবে R&C Education, Peony, Level Up Academy, UDRIVE, SOTE (Shape of Tomorrow’s Education), HAMAMA এবং M/S. Jony Enterprise-এর অবদান এই আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ ও অর্থবহ করে তুলেছে। মিডিয়া পার্টনার হিসেবে কালের কণ্ঠ, আজকের পত্রিকা এবং NTV, ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি পার্টনার হিসেবে ADU Clicks-এর সহযোগিতা সম্মেলনের বার্তাকে দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে এবং প্রতিটি মুহূর্তকে স্মরণীয় করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
MURS-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সম্মেলন কেবল একটি একাডেমিক আয়োজন নয়, এটি বাংলাদেশের তরুণ গবেষক প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকারের এক উজ্জ্বল প্রকাশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দের অভিমত, NICSDG-2026-এর মতো মানসম্পন্ন জাতীয় সম্মেলন ভবিষ্যতে আরও বেশি শিক্ষার্থীকে গবেষণায় অনুপ্রাণিত করবে এবং দেশের একাডেমিক পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উল্লেখ্য, এই সাফল্যের নেপথ্যে অসামান্য অবদান ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ইমেরিটাস ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী এবং বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান চৌধুরী। তাঁদের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ ইশরাত ইবনে ইসমাইল, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. তাহের বিল্লাল খলিফা, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সৈয়দ নাকিব সাদী, কনভেনার মো. জিয়াউর রহমান, কো-কনভেনার মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাদমান শাকিব, এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণা তত্ত্বাবধায়কগণের একনিষ্ঠ পরিচর্যা ও একাডেমিক পরামর্শ এই পথচলাকে অর্থবহ ও সার্থক করে তুলেছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, কনফারেন্স সেক্রেটারিয়েট সিফাত ইকবাল, শাহরিয়ার আলম মেহেদী তাপাদার, মো. তারেক মিয়া, শাহ ফজলে এলাহী এবং মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি রিসার্চ সোসাইটি (MURS)-এর সকল কনফারেন্স কমিটি সদস্যদের দীর্ঘ কয়েক মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাংগঠনিক দক্ষতার ফলেই এই সম্মেলন সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
সর্বোপরি, NICSDG-2026-এর এই জাতীয় আসরের সফল দুই দিনের কার্যক্রম মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির জন্য যেমন অনন্য গৌরবের, তেমনি এটি বাংলাদেশের তরুণ গবেষক প্রজন্মের মেধা, সৃজনশীলতা ও একাডেমিক উৎকর্ষের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৫




