প্রায় এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা ছাদের উপর জমে থাকা জলাশয় এবং মশা প্রজননের অন্যান্য স্থান খুঁজে বের করতে সামরিক ড্রোন ব্যবহার করছে।
 

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।


চলতি বছর দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে ডেঙ্গু ভাইরাসে ৫৬ জন মারা গেছেন এবং ৭৭ হাজার জনেরও বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। এক-চতুর্থাংশের বেশি শুধুমাত্র জুলাই মাসেই শনাক্ত হয়েছে।
 

ডেঙ্গু জ্বর মশার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। ক্রান্তীয় জলবায়ুতে এটি একটি সাধারণ রোগ। কিন্তু বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সাথে সাথে এই রোগবাহী মশাগুলো এখন ইউরোপ এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলসহ নতুন নতুন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, বিশ্বব্যাপী শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ২০০০ সালে প্রায় ৫ লাখ থেকে বেড়ে ২০২৪ সালে ১ কোটি ৪৪ লাখে দাঁড়িয়েছে।

শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ডেঙ্গু সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য গত ডিসেম্বরে দ্বীপটিতে আঘাত হানা একটি ঘূর্ণিঝড়কে দায়ী করছে, যা ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে দিয়ে মশার নতুন প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।
 

সরকার বাড়ি, স্কুল এবং নির্মাণস্থলের ছাদ স্ক্যান করার জন্য ড্রোন ব্যবহার করতে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছে। এর পাশাপাশি মানুষের বাড়িতে সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের মোতায়েন করেছে।

চলতি মাসে রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রায় ১১ হাজার মশার প্রজনন ক্ষেত্র পরিষ্কার করা হয়েছে এবং এই ধরনের ক্ষেত্র থাকার জন্য চার হাজারেরও বেশি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

সারাদেশে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেলেও তা রাজধানী কলম্বোর মতো শহরাঞ্চলে বেশি কেন্দ্রীভূত হচ্ছে।
 

জাতীয় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের কর্মী কানানগারা বলেছেন, এই প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় হাসপাতালগুলো শয্যা সংখ্যা বাড়িয়েছে এবং কাজের সময়ও বৃদ্ধি করেছে এবং জনস্বাস্থ্য কর্মীরা ‘তাদের ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছেন।’
 

তিনি বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেশি এবং রোগের তীব্রতাও বেশি।”

ধারণক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসকেরা মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের বাড়িতে বিশ্রাম নিয়ে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স


 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৫