যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকেই একাধিকবার যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি অপরাধের দায়ে সরাসরি আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়েছে।
তবে ইতিহাসের পাতায় তাকালে দেখা যায়, ক্ষমতার সর্বোচ্চ শিখরে থেকে যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়ানো বা আইনি মারপ্যাঁচে পড়া রাষ্ট্রনায়কদের তালিকা বেশ দীর্ঘ। তাঁদের কেউ হারিয়েছেন ক্ষমতা, কেউ ভোগ করেছেন কঠোর কারাদণ্ড, আবার কেউ তীব্র বিতর্কের মধ্যেও রাজনৈতিকভাবে টিকে গেছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো কয়েকজন প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কের ব্যক্তিগত জীবনের কেলেঙ্কারি এবং এর আইনি ও রাজনৈতিক পরিণতি নিচে তুলে ধরা হলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠলেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে তাঁকে ‘ভদ্রলোক’ প্রমাণের হিড়িক পড়ে যায়। তবে সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন-সংক্রান্ত এফবিআইয়ের যেসব নতুন নথি প্রকাশ করেছে, তাতে ট্রাম্পের সেই সাধু ভাবমূর্তি ধরে রাখা কঠিন।
নথিতে এক অজ্ঞাতনামা নারী দাবি করেছেন, ১৯৮০-এর দশকে যখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৩ থেকে ১৫ বছর, তখন এপস্টিন তাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর ট্রাম্প নাকি তাঁকে জোর করে যৌন সম্পর্কে লিপ্ত হতে বাধ্য করার চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৯ সালের এই জবানবন্দি এত দিন নথিতে কালো কালিতে ঢেকে রাখার চেষ্টা চললেও শেষ রক্ষা হয়নি।
অবশ্য হোয়াইট হাউস একে ‘মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত’ দাবি করেছে। ট্রাম্পের সমর্থকেরা প্রায় ২০ বছর আগের একটি ফোনালাপ সামনে এনেছেন, যেখানে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি শুরুতেই জানতেন এপস্টিন একজন ‘অসভ্য’ মানুষ। ২০০৪ সালে মার-এ-লাগো ক্লাবের কর্মচারী ভাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করায় ট্রাম্প নাকি এপস্টিনকে লাথি মেরে বের করে দিয়েছিলেন। যদিও আশির ও নব্বইয়ের দশকে তাঁদের মাখামাখি অন্য কথাই বলে।
যৌন কেলেঙ্কারি ও ফৌজদারি অপরাধের দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের মধ্যে একমাত্র ট্রাম্পই দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৩ সালে লেখক ই জিন ক্যারলকে যৌন নির্যাতনের দায়ে আদালত ট্রাম্পকে ৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা করে।
এ ছাড়া ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে পর্নো তারকা স্টর্মি ড্যানিয়েলসের মুখ বন্ধ রাখতে ‘হাশ মানি’ বা গোপন অর্থ দেওয়ার তথ্য লুকাতে ব্যবসায়িক নথি জালিয়াতির মামলায় ট্রাম্প ৩৪টি ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন। তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্ক সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হুয়ান মার্চেন ট্রাম্পকে এই মামলা থেকে ‘শর্তহীন অব্যাহতি’ দেন। বিচারক জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে আসীন হতে যাওয়ায় শাসনতান্ত্রিক সুরক্ষার কারণে তাঁকে কোনো সাজা দেওয়া সম্ভব নয়।
বিল ক্লিনটন
মার্কিন রাষ্ট্রপ্রধানদের যৌন কেলেঙ্কারির কথা উঠলে বিল ক্লিনটনের নাম আসে সবার আগে। ১৯৯৮ সালে হোয়াইট হাউসের ২২ বছর বয়সী ইন্টার্ন মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের খবর দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তবে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এই কেলেঙ্কারির মূল সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে আরকানসাসের সরকারি কর্মচারী পলি জোন্সের দায়ের করা একটি যৌন হয়রানির মামলা থেকে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পলি জোন্সের মামলায় জবানবন্দি দেওয়ার সময় ক্লিনটন শপথের অধীনে দাঁড়িয়ে মনিকা লিউনস্কির সঙ্গে কোনো ধরনের ‘যৌন সম্পর্ক’ থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। কিন্তু মনিকার সেই বিখ্যাত নীল পোশাকে লেগে থাকা দাগের সঙ্গে ক্লিনটনের ডিএনএ হুবহু মিলে যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের এই অকাট্য ফরেনসিক প্রমাণ এবং স্বাধীন কাউন্সেল কেনেথ স্টারের জেরার মুখে অবশেষে ক্লিনটন তাঁর গোপন সম্পর্কের কথা স্বীকার করতে বাধ্য হন।
শপথের অধীনে দাঁড়িয়ে এই মিথ্যাচারের অভিযোগে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ক্লিনটনকে অভিশংসিত করে। তবে ১৯৯৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিনেটে ভোটাভুটির মাধ্যমে তিনি পদ রক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে আদালত অবমাননা ও মিথ্যা সাক্ষ্যের অপরাধে ক্লিনটনকে জরিমানা করেন বিচারক সুসান ওয়েবার। পরে ১৯৯৮ সালের নভেম্বরে ক্লিনটন ৮ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বিনিময়ে পলি জোন্সের সঙ্গে আদালতের বাইরে মামলাটি রফা করেন।
মোশে কাৎসাভ (ইসরায়েল)
যৌন অপরাধের দায়ে ক্ষমতার সর্বোচ্চ চূড়া থেকে সরাসরি কারাগারে যাওয়ার সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইসরায়েলের অষ্টম প্রেসিডেন্ট মোশে কাৎসাভ। ২০০০ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা কাৎসাভের বিরুদ্ধে ২০০৬ সালে প্রথম যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
বিবিসির আর্কাইভ থেকে জানা যায়, ২০০৬ সালে কাৎসাভ নিজেই অ্যাটর্নি জেনারেল মেনাহেম মাজুজের কাছে অভিযোগ করেন যে এক নারী কর্মী তাঁকে ব্ল্যাকমেল করছেন। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে যায়। ওই নারী কর্মী অভিযোগ করেন, ১৯৯৮ সালে কাৎসাভ তাঁকে দুইবার ধর্ষণ করেছিলেন। পরবর্তী সময় প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের আরও দুই নারী কর্মী তাঁর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আনেন।
যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে কাৎসাভকে একটি সহজ আপস মীমাংসার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নিজেকে সম্পূর্ণ নিষ্কলঙ্ক প্রমাণ করার দম্ভ দেখিয়ে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং আদালতের মুখোমুখি হন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০১০ সালের ডিসেম্বরে তেল আবিব জেলা আদালতের তিন বিচারকের প্যানেল কাৎসাভকে দুই দফায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালত তাঁর জবানবন্দিকে ‘মিথ্যাচারে পরিপূর্ণ’ উল্লেখ করে ঐতিহাসিক রায় দেয়, যখন কোনো নারী ‘না’ বলেন, তার অর্থ শুধুই ‘না’। ২০১১ সালে তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সিলভিও বারলুসকোনি (ইতালি)
ইতালির চারবারের প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনি তাঁর বর্ণাঢ্য, অসংযমী ও বিতর্কিত ব্যক্তিগত জীবনের জন্য সারা বিশ্বে পরিচিত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটি ‘রুবিগেট’ নামে পরিচিত।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১০ সালে বারলুসকোনির বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে তিনি তাঁর বিলাসবহুল প্রমোদতরি ও প্রাসাদে ‘বুঙ্গা বুঙ্গা’ নামের যৌন পার্টি আয়োজন করতেন। সেখানে করিমা এল মারুগ (ডাকনাম রুবি দ্য হার্টস্টিলার) নামের এক ১৭ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক মরক্কোর কিশোরীকে অর্থ দিয়ে তাঁর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। শুধু তা-ই নয়, রুবি চুরি করার অপরাধে মিলান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলে প্রধানমন্ত্রী বারলুসকোনি স্বয়ং পুলিশ স্টেশনে ফোন করে তাঁকে মুক্ত করেন। সে সময় তিনি পুলিশকে মিথ্যা বলেছিলেন যে রুবি হলেন মিসরের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারকের নাতনি।
২০১৩ সালে মিলানের একটি নিম্ন আদালত ক্ষমতার অপব্যবহার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করার দায়ে বারলুসকোনিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে ২০১৪ সালে উচ্চ আদালত এই রায় বাতিল করে দেন। আদালত জানান, রুবি যে অপ্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন, বারলুসকোনি তা জানতেন—এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পুলিশ হাজির করতে পারেনি।
জ্যাকব জুমা (দক্ষিণ আফ্রিকা)
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জ্যাকব জুমাও তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে এক বিশাল যৌন কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছিলেন। ২০০৫ সালের শেষ ভাগে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেন এক পারিবারিক বন্ধুর মেয়ে।
মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সে সময়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারী ফেজেকিলে এনতসুকেলা কুজওয়েও (যিনি ছদ্মনাম ‘খুয়েজি’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন) ছিলেন একজন এইচআইভি পজিটিভ সমাজকর্মী। খুয়েজির বাবা জুডসন কুজওয়েও ছিলেন জুমার রাজনৈতিক সহযোদ্ধা, যিনি বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় জুমার সঙ্গে রবেন দ্বীপে ১০ বছর বন্দী ছিলেন। জুমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি নিজের জোহানেসবার্গের বাড়িতে খুয়েজিকে ধর্ষণ করেন। তবে জুমার দাবি ছিল, সম্পর্কটি সম্মতির ভিত্তিতে হয়েছিল।
২০০৬ সালের মে মাসে দক্ষিণ আফ্রিকার আদালত জুমাকে খালাস দেয়। তবে মামলার শুনানির সময় জুমার দেওয়া একটি জবানবন্দি বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি করে। জুমা আদালতে স্বীকার করেন যে তিনি জানতেন খুয়েজি এইচআইভি পজিটিভ, কিন্তু মিলনের পর এইডস সংক্রমণ এড়াতে তিনি স্রেফ ‘গোসল’ করেছিলেন। এই মন্তব্য দক্ষিণ আফ্রিকার এইডস অ্যাকটিভিস্টদের চরম ক্ষুব্ধ করে।
জুমা ২০০৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট হন। তবে খুয়েজি জুমার অন্ধ সমর্থকদের অব্যাহত হুমকি ও লাঞ্ছনার মুখে দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং ২০১৬ সালে নেদারল্যান্ডসে নির্বাসিত অবস্থায় মারা যান।
ফারনান্দো লুগো (প্যারাগুয়ে)
প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফারনান্দো লুগোর কেলেঙ্কারিটি ছিল একাধারে ধর্মীয় ও রাজনৈতিক। লুগো ছিলেন রোমান ক্যাথলিক চার্চের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় বিশপ, যাঁকে প্যারাগুয়ের গরিব মানুষ ‘দরিদ্রদের বিশপ’ বলে ডাকত। তিনি ২০০৬ সালে চার্চের পদ ছেড়ে রাজনীতিতে নামেন এবং ২০০৮ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
কাতারের সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষমতায় বসার মাত্র কয়েক মাসের মাথায় প্যারাগুয়ের রাজনীতিতে ঝড় ওঠে। ভিভিয়ানা কারিলো নামের ২৬ বছর বয়সী এক নারী লুগোর বিরুদ্ধে তার সন্তানের পিতৃত্বের দাবিতে মামলা করেন।
কারিলোর দাবি ছিল, তিনি যখন ১৬ বছরের কিশোরী ছিলেন এবং লুগো যখন বিশপ হিসেবে তাঁর পালক মায়ের বাড়িতে থাকতেন, তখন থেকেই তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক ছিল। এই দাবির মুখে ২০০৯ সালের এপ্রিলে লুগো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে তিনি ওই নারীর দুই বছরের সন্তানের বাবা। এর পরপরই আরও দুই নারী দাবি করেন, তাঁদের সন্তানদের বাবা লুগো।
একজন ক্যাথলিক বিশপের এমন কেলেঙ্কারি প্যারাগুয়ের রক্ষণশীল সমাজে তীব্র আঘাত হানে। তাঁর নৈতিক অবস্থান পুরোপুরি ধসে পড়ে। এই নৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ২০১২ সালের জুনে প্যারাগুয়ের সিনেট এক সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক অভিশংসনের মাধ্যমে লুগোকে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে অপসারণ করে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টদের গোপন জীবন
ফ্রান্সের রাজনীতিতে নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনকে সাধারণত সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না করার একটি ঐতিহাসিক আইন ও ঐতিহ্য রয়েছে। ফরাসি দেওয়ানি বিধির ৯ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা একটি আইনি অধিকার। তবে কিছু রাষ্ট্রপ্রধানের ক্ষেত্রে এই ব্যক্তিগত জীবন রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের স্তরে পৌঁছে গিয়েছিল।
ফ্রান্সের জাতীয় দৈনিক ল্য মঁদ -এর এক বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, সাবেক ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রঁসোয়া মিতেরাঁ তাঁর দীর্ঘ ৩০ বছরের প্রেমিকা অ্যান পিঞ্জোর গর্ভে জন্ম নেওয়া কন্যাসন্তান মাজারিন পিঞ্জোর জন্য দীর্ঘ ২০ বছর রাষ্ট্রীয় খরচ বহন সম্পূর্ণ গোপন রেখেছিলেন।
মাজারিন ও তাঁর মাকে পাহারা দিতে ফরাসি এলিট সিকিউরিটি ইউনিটের একটি বিশেষ দল সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকত। শুধু তা-ই নয়, মাজারিনের অস্তিত্ব যাতে কোনো সাংবাদিক প্রকাশ করতে না পারেন, সে জন্য মিতেরাঁ বেআইনিভাবে বহু সাংবাদিক ও লেখকের ফোনে আড়ি পাতার নির্দেশ দিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিন মাজারিনের ছবি প্রকাশ করার পর ফরাসি জনগণ প্রথম এই সত্য জানতে পারে।
২০১৪ সালে তৎকালীন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের একটি গোপন সম্পর্কের ছবি ফাঁস করে ফরাসি ম্যাগাজিন ক্লোজার। ছবিতে দেখা যায়, ওলাঁদ হেলমেট পরে সাধারণ স্কুটারে চড়ে অভিনেত্রী জুলি গায়ের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন। এই ঘটনা ফাঁসের পর ওলাঁদের অফিশিয়াল পার্টনার ও ফ্রান্সের ফার্স্ট লেডি ভ্যালেরি ট্রাইয়েরউইলারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ভেঙে যায়, যা ফ্রান্সে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
জন এফ কেনেডি (যুক্তরাষ্ট্র)
মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম ক্যারিশম্যাটিক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডির ব্যক্তিগত জীবন ছিল রহস্য ও কেলেঙ্কারিতে ঘেরা। তাঁর জীবদ্দশায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম ঐতিহ্যগত নীরবতা বজায় রাখলেও তাঁর মৃত্যুর পর প্রকাশিত নথিতে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।
অবমুক্ত করা মার্কিন গোয়েন্দা ফাইলের ভিত্তিতে লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কেনেডির জীবনে সবচেয়ে বিপজ্জনক সম্পর্কটি ছিল জুডিথ ক্যাম্পবেল এক্সনারের সঙ্গে। ১৯৬০ সালে বিখ্যাত গায়ক ফ্রাঙ্ক সিনাত্রা জুডিথের সঙ্গে কেনেডির পরিচয় করিয়ে দেন। তবে জুডিথ একই সময়ে শিকাগোর কুখ্যাত মাফিয়া ডন স্যাম জিয়ানকানা এবং গ্যাংস্টার জন রোজেলিরও প্রেমিকা ছিলেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের অবমুক্ত করা ঐতিহাসিক ফাইল অনুযায়ী, সংস্থার তৎকালীন ডিরেক্টর জে এডগার হুভার যখন জুডিথের ফোনের কললিস্ট পরীক্ষা করেন, তখন দেখেন জুডিথ একই সঙ্গে মাফিয়া ডন জিয়ানকানা এবং হোয়াইট হাউসের অফিশিয়াল নম্বরে ফোন করছেন। ১৯৭৫ সালে মার্কিন সিনেটের চার্চ কমিটির কাছে জুডিথ জবানবন্দি দিয়ে স্বীকার করেন যে তিনি কেনেডি ও মাফিয়া ডন জিয়ানকানার মধ্যে ব্যক্তিগত কুরিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৬০ সালের নির্বাচনে শিকাগোর ভোট নিজেদের পক্ষে আনতে কেনেডি মাফিয়াদের টাকা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি জুডিথের মাধ্যমে পৌঁছে দিয়েছিলেন। এ ছাড়া কিউবার শাসক ফিদেল কাস্ত্রোকে হত্যা করার জন্য সিআইএ ও মাফিয়াদের যে যৌথ পরিকল্পনা ছিল, তাতেও জুডিথ মধ্যস্থতাকারী ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৯




