ছবি: সিলেট ভিউ।
অধিগ্রহণকৃত ভূমির ক্ষতিপূরণ ও জমির মূল্য পরিশোধের দাবিতে দেওয়া তালা ১০ দিন পর খুলে দেওয়া হয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ গ্যাস ফিল্ডে। উপজেলা প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ভূমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনার পর জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিত কুমার চন্দ বৃহস্পতিবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন।
এ সময় ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক ইকবাল আহমদ তাপাদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মাওলানা মোস্তাফা আহমদসহ ভূমির মালিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১৩ জুলাই অধিগ্রহণকৃত জমির ন্যায্য মূল্য ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন ভূমির মালিকরা। বিষয়টি সামনে আসার পর সমাধানে উদ্যোগ নেন ইউএনও সুজিত কুমার চন্দ। তিনি ভূমির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের দাবি শুনেন এবং জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।
আলোচনায় প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ২০ দিনের মধ্যে ভূমির ক্ষতিপূরণের চেক মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান জটিলতা নিরসন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থও পরিশোধের চেষ্টা করা হবে। প্রশাসনের এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে ভূমির মালিকরা তালা খুলে দিতে সম্মত হন। পরে ইউএনও তাদের উপস্থিতিতে গ্যাস ফিল্ডের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন।
এর আগে ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স) জকিগঞ্জ পৌরসভার আনন্দপুর এলাকায় গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক ওই এলাকায় ১৬ কেদার (কিয়ার) জমি অধিগ্রহণ করেন এবং গ্যাস ফিল্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকরা ক্ষতিপূরণ ও জমির মূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন।
ভূমির মালিকদের দাবি, গ্যাস ফিল্ডের কার্যক্রম শুরুর সময় থেকেই তারা ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে পরে জাতীয় স্বার্থে গ্যাস ফিল্ডের কাজ চালাতে সহযোগিতা করেছিলেন। এরপর বছরের পর বছর কেটে গেলেও প্রাপ্য অর্থ না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে। সম্প্রতি ভূমির শ্রেণি পরিবর্তনসংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সমাধান হয়নি। একই সঙ্গে ক্ষতিপূরণ ও অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় শেষ পর্যন্ত তারা গ্যাস ফিল্ডে তালা দেওয়ার কর্মসূচি পালন করেন।
ভূমির মালিকদের প্রতিনিধি ইকবাল আহমদ তাপাদার বলেন, বর্তমান বাজারদরের তুলনায় জমির মূল্য অযৌক্তিকভাবে কম নির্ধারণ করা হয়েছে। আমরা ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। ইউএনও আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক এবং পরবর্তী দ্রুত সময়ে অধিগ্রহণের অর্থ পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। সেই আশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আপাতত তালা খুলে দিতে আমরা সম্মতি দিয়েছি।
জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুজিত কুমার চন্দ বলেন, ভূমির মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের দাবিগুলো শুনেছি। ক্ষতিপূরণের চেক দ্রুত হস্তান্তরের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামী ২০ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের চেক মালিকদের হাতে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
ইউএনও আরও জানান, সব ধরনের জটিলতা নিরসন করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে অধিগ্রহণের অর্থও পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের আশ্বাসে ভূমির মালিকরা তালা খুলতে সম্মত হওয়ায় আমি সরেজমিনে গিয়ে তালা খুলে দিয়েছি। ফলে গ্যাস ফিল্ডের অচলাবস্থা কেটে গেছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ হাছিব/ এহিয়া-০৭




