ছবি: সংগৃহিত

আষাঢ়-শ্রাবণ বর্ষাকাল হিসাবে পরিচিত হলেও এবারের শ্রাবণ মাসটা কিছুটা ব্যতিক্রম। তুলনামূলক বৃষ্টি কম। সূর্যের তেজ প্রখর। অসহনীয় গরম। আবহাওয়া অফিস বৃষ্টির পূর্বাভাস দিচ্ছে বটে, কিন্তু তা হচ্ছেনা। আর তাই গরমে রীতিমতো নাজেহাল অবস্থা।

 


এ অবস্থা চলবে আর কতদিন- কেউ জানেনা। আশা, বৃষ্টি নামলে গরম কমবে- এই। সিলেট আবহাওয়া অফিস এমনটাই জানিয়েছে। তবে কবে নাগাদ বৃষ্টি নামবে আর কবে নাগাদ তাপমাত্রা হ্রাস পেতে পারে, সে সম্পর্কে কোনো ধারণা দিতে পারেন নি সংশ্লিষ্টরা।

 

সোমবার (২৭ জুলাই) সিলেট অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়া। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

এর আগের দিন রবিবারের অবস্থাও ছিল প্রায় একই রকম। সেদিন সিলেট অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

 

দু’দিনের এমন ভ্যাপসা গরমের সাথে শহর বন্দর গ্রাম, সর্বত্র ছিল বিদ্যুতের অসহনীয় লোডশেডিং। এ অবস্থায় জনজীবনে নেমে আসে চরম দুর্ভোগ।

 

বিশেষ করে বয়স্ক ও শিশুদের অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। সবাই স্বস্তির খোঁজে অলস সময় কাটানোর চেষ্টা করেছেন গাছের নিচে বা বারান্দায়, একটু ছায়ায়। শহর এবং গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে সিরাপজাতীয় পানিয়র চাহিদা ছিল তুঙ্গে।

 

বিয়ানীবাজার পৌর শহরের একজন শরবৎ ব্যবসায়ী আনিস (৪৫)। রবিবার বিকালে মৃদু হেসে জানান, তার ব্যবসা তুঙ্গে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অন্তত দুই আড়াইগুণ বেশি শরবৎ বিক্রি হচ্ছে।

 

এদিকে শহরের সব শ্রেণী পেশার মানুষই এই গরমে অসহনীয় জীবন যাপন করছেন। বিশেষ করে যাদের ঘরে এসি নেই, এমন ব্যবসায়ী বা ঘরবাড়ির বাসিন্দাদের কষ্ট সীমাহীন।

আর সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন, শ্রমজীবী মানুষেরা। বিশেষ করে কায়িক শ্রমের সঙ্গে জড়িতদের অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। অনেকে কাজ ছেড়ে দিয়েছেন। আর কেউ কেউ একদিনের কাজ করছেন তিন দিনে।

এ অবস্থায় সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘন্টায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তীত থাকতে পারে।

 

তবে বৃষ্টির পূর্বাভাসও দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও হালকা থেকে মাঝারি, কোথাও আবার বজ্রসহ ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।  গত  ২৪ ঘন্টায় সিলেটে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে