গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা রক্ষা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দাবিতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ পদযাত্রা’ উপলক্ষে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 

সোমবার (২৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টায় আজমিরীগঞ্জ শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।


এতে অংশ নেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।
 

সমাবেশে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত নেতাকর্মী ও সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সীমান্ত সুরক্ষার লক্ষ্যে এনসিপির আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে বলে তারা উল্লেখ করেন। সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের নিয়ে পদযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
 

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “দেশের ১ হাজার ৪০০ সন্তানকে যারা হত্যা করেছে এবং যারা তাদের পক্ষে কথা বলে, তাদের কথা শোনার সময় জনগণের নেই। বৈষম্যমূলক চাকরি ব্যবস্থা ও কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আমরা আন্দোলন করেছি। যখন আমরা যৌক্তিক দাবির পক্ষে রাজপথে বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলাম, তখন কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা আমাদের সমর্থনে রাস্তায় নেমেছিল। তাদের ওপর গুলি চালিয়ে বহু মানুষকে শহীদ করা হয়েছে। তাই জনগণ আর কোনোভাবেই শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরে আসার সুযোগ দেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “২০১৪ সালের বিনাভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচন দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। এসব ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমান সরকারও যদি ফ্যাসিবাদী আচরণের পুনরাবৃত্তি করে, তবে জনগণ তাদের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবে।”
 

সরকারি চাকরিজীবীদের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, ‘জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতন নিয়ে জনগণের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সরকারের অন্যায় সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিলে জনগণ তা মেনে নেবে না।’

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ‘আমি একজন গ্রামের সন্তান। যখন চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল এবং নিয়োগে দলীয় প্রভাব ছিল, তখন বিবেকের তাড়নায় লাখো ছাত্র, শ্রমিক, যুবকসহ সর্বস্তরের মানুষ কোটা সংস্কার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।’

তিনি বলেন, ‘দেশকে পরিবর্তন করতে হলে সবাইকে সচেতন হতে হবে। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় বেতনভোগী কর্মকর্তারা জনগণের সেবক, শাসক নন। হবিগঞ্জে গড়ে ওঠা বিভিন্ন শিল্প-কারখানার মালিকরা এ অঞ্চলের নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও স্থানীয় মানুষের উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানে যথাযথ ভূমিকা রাখেননি। বরং অল্প বেতনে স্থানীয় তরুণদের শ্রম কাজে লাগানো হচ্ছে।’
 

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী আরো বলেন, ‘তারেক রহমানের দ্বারা বাংলাদেশের  পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তিনি সমাজের সবচেয়ে খারাপ লোকদের পার্লামেন্টে নিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, সারাদেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা নানা অপকর্মে জড়িত। তারা মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত।’

সমাবেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/মিলাদ/এসডি-০৬