বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় অধীনস্থ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে এসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োজিতকরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এ উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জের শাল্লায় ২২ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই আবেদন গ্রহন শুরু হয় এবং আবেদনকারীদের ডকুমেন্টস যাচাই-বাছাই শেষে তাদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৯ জুলাই সম্পন্ন হয়।
এদিকে ১ আগস্ট হতে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শুরুর কথা থাকলেও অদৃশ্য কারনে এখনো পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। পরীক্ষার ফল কবে প্রকাশিত হবে তাও নিশ্চিত করতে পারেনি ফ্যামিলি কার্ড নিয়োজিতকরণ কমিটি।
সূত্রে জানা যায়, শাল্লা উপজেলায় সুপারভাইজার পদে নির্বাচিত করা হবে ০৩ জন। এর বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৫৭ জনের। আবার তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে ৩২ জন। এর বিপরীতে আবেদন করা হয়েছে ৫২৬ জন।
তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচন করার ক্ষেত্রে ১০০ মার্কের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরীক্ষার ক্যাটাগরিতে ছিল, বাংলা ও ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, নিজস্ব স্মার্টফোন, মোবাইল/ট্যাব চালু, লক-আনলক ও অ্যাপে লগইন করা, গুগল ম্যাপ ব্যবহার করা, নমুনা তথ্য সঠিকভাবে অ্যাপে প্রবেশ করানো, গুগল ম্যাপে জিও-ট্যাগিং করা এবং বাড়ির ছবি তোলা ও সংযুক্ত করা। দৈনিক রিপোর্ট প্রদান মানসিকতা ও দক্ষতা, নেতৃত্ব ও দলনেতৃত্ব ও যোগাযোগ সক্ষমতা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলা করার সক্ষমতা, সার্বিক আচার, আচরণ ও মৌখিক প্রশ্নের উত্তরদান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার নম্বর।
এবিষয়ে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োজিত করন কমিটির সদস্য সচিব সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী জানান, আমরা নিয়োগ পরীক্ষার কর্যক্রম শেষ করেছি তবে পরীক্ষার ফলাফল কবে দেওয়া হবে এব্যাপারে ইউএনও স্যার বলতে পারবেন।
তিনি আরো বলেন, আমার কাছে অনেকেই সুপারিশ করেছে কিন্তু আমি এগুলো গ্রহন করিনি। এছাড়া আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি কোনো উত্তর দিতে রাজি নন।
তবে ফ্যামিলি কার্ডের নিয়োজিত করন কিছু পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তারা জানান, ভাইবা বোর্ডে চার জন স্যার ছিলেন। দু'জন স্যার মৌখিক প্রশ্ন করেছেন আর অন্য দু'জন ল্যাপটপ ও মোবাইলের মাধ্যমে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা নিয়েছেন।
তারা বলেন, আমাদের পরীক্ষা খুব ভাল হয়েছে সেই সাথে পূর্বের জন শুমারী করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে। আশাবাদী এই কাজে অংশীদারের সুযোগ পাব। কিন্তু ১আগস্ট থেকে ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরুর কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরীক্ষার রেজাল্ট প্রকাশ না করায় আমরা হতাশাগ্রস্ত।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োজিত করন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, আমরা পরীক্ষার কার্যক্রম শেষ করে রেজাল্ট প্রকাশের জন্য যাচাই-বাছাই করছি। তবে অতি শীগ্রই আমাদের ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে এবং কবে রেজাল্ট প্রকাশ করা হবে তা তিনি নিশ্চিত করে বলতে পারেননি।
আরেক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাছে বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক সুপারিশ আসছে কিন্তু আমরা নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার আলোকে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নির্বাচিত করর এর বাহিরে আর কোনো কিছুর সুযোগ নাই।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সন্দীপন/এসডি-১৪




