ছবি: সংগৃহিত

সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার হাট-বাজার ও বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ জনপদের বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং নিরাপদ রাত্রিকালীন চলাচল নিশ্চিত করতে স্থাপন করা সৌরচালিত (সোলার) সড়কবাতিগুলোর অধিকাংশই বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সৌর প্যানেল ও ব্যাটারি নষ্ট থাকায় সন্ধ্যা নামলেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে। এতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে সরকারি অর্থায়নে উপজেলার জৈন্তাপুর সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক, হাট-বাজার ও মোড়ে এসব সোলার সড়কবাতি স্থাপন করা হয়। শুরুতে এগুলো সচল থাকায় সাধারণ মানুষের রাতের চলাচল অনেকটাই নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বর্তমানে অধিকাংশ বাতিই বিকল হয়ে পড়ে আছে।

 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রায় তিন থেকে চার বছর ধরে অনেক সড়কবাতি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। বিষয়টি একাধিকবার উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে রাতের বেলায় চুরি-ছিনতাইয়ের আশঙ্কার পাশাপাশি নারী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। সরকারি অর্থে স্থাপিত এসব সড়কবাতি দ্রুত মেরামত করে সচল করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

 

উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোলার লাইটগুলো চালু থাকাকালে রাতের বেলায় চলাফেরা অনেক সহজ ও নিরাপদ ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাতিগুলো নষ্ট হয়ে থাকায় সন্ধ্যার পর অনেক এলাকা ভূতুড়ে অন্ধকারে ডুবে থাকে। এতে বাজারে যাওয়া কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে বাইরে বের হতে মানুষকে আতঙ্ক নিয়ে চলাফেরা করতে হয়। স্থানীয়রা জানান, বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের বারবার অবহিত করা হলেও কোনো দৃশ্যমান সমাধান হয়নি। তারা দ্রুত সড়কবাতিগুলো মেরামতের দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর নিয়ম অনুযায়ী দুই বছর পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব ঠিকাদারের ছিল। সেই মেয়াদ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালের বন্যার পর প্রকল্পটি বাতিল হয়ে যায়। বিভিন্ন অভিযোগের পর উপজেলা মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে কোনো বরাদ্দ না আসায় এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়নি।

 

তিনি আরও বলেন, উপজেলার কোন কোন এলাকায় সোলার সড়কবাতি অকার্যকর রয়েছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সঙ্গে আলোচনা করে সামাজিক সংগঠন কিংবা আগ্রহী ব্যক্তিদের সহযোগিতায় মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাহিদুল/ইকে