যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে নির্বাচিত ব্রিটিশ-বাংলাদেশী কাউন্সিলর (সাবেক) সিলেটের বিশ্বনাথের ইছমাইল হোসেন সিরাজী উদ্দিন লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে ‘পলিটিক্স’ বিষয়ে সর্বোচ্চ সম্মান’সহ ব্যাচেলর অফ আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। সম্প্রতি গর্বিত পিতা-মাতার উপস্থিতিতে বার্ষিক সমাবর্তনে যুক্তরাজ্যের সেই ইউনিভার্সিটির কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

২০০৪ সালের ১৪ জুলাই যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড সিটিতে জন্মগ্রহন করা ইছমাইল হোসেন সিরাজী উদ্দিন প্রবাসী অধ্যুষিত বিশ্বনাথ পৌরসভার কারিকোনা গ্রামের অধিবাসী, যুক্তরাজ্যের ব্রাডফোর্ড সিটির কমিউনিটি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা জমির উদ্দিন ও আছমা খাতুন দম্পতির জ্যৈষ্ঠ পুত্র। ৬ ভাই বোনের মধ্যে ইছমাইল উদ্দিন হচ্ছেন বাবা-মায়ের ৩য় সন্তান।


ছোটবেলা থেকেই প্রখর মেধার অধিকারী ইছমাইলের মধ্যে তার সহপাঠীরা ও স্কুলের শিক্ষকরা নেতৃত্বের গুণাবলী দেখতে পেয়ে তাকে হ্যানসন একাডেমীর ডেপুটি হেড বয় নির্বাচিত করেন। এরপর থেকে প্রতিভা ও নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলীর কারণে তাকে ডিক্সনস সিক্সথ ফর্ম’র প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া ইছমালন লিডস ইউনিভার্সিটির ছাত্রদের সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ইছমাইল ছাত্র থাকা অবস্থায় ব্রাডফোর্ড সিটি’সহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন টাউনে ফিলিস্তিন’সহ পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে নির্যাতিত মানুষের পক্ষে কথা বলতে থাকেন। মানবতার পক্ষে একজন উদীয়মান তরুণ ইছমাইলের জ্বালাময়ী বক্তব্য ব্রাডফোর্ড’সহ পার্শ্ববর্তী সিটির সকল শ্রেণীর মানুষকে আকৃষ্ট করতে সক্ষম হন। ইছমাইলের বয়স যখন মাত্র ১৯ অর্থাৎ ২০২৪ সালে তখন ব্রিটেনের মেইন ষ্ট্রিম পলিটিক্সের সাথে জড়িত বড় বড় দলগুলি তাকে সিটি অফ ব্রাডফোর্ড মেট্রোপলিটন ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলে কাউন্সিলর পদে দলীয় মনোনয়ন দিতে চায়। কিন্তু ইছমাইল কোন দলের পক্ষে নমিনেশন না নিয়ে ব্রাডফোর্ড ইন্ডিপেন্ডেন্ট গ্রুপ থেকে বোলিং অ্যান্ড বার্কারেন্ড এলাকা থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দিতা করে বিপুল ভোটে ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। মাত্র ১৯ বছর বয়সে সারা যুক্তরাজ্যে প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশী ও সর্বকনিষ্ঠ কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়ার গৌরব অর্জন করেন। তিনি ২০২৪-২০২৫ সাল পর্যন্ত কাউন্সিলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ইছমাইলের নির্বাচনী এলাকার মানুষের আগ্রহ থাকা স্বত্তে¡ও ব্রিটিশ সরকারের সিভিলে সার্ভিসে পলিসি ডিপ্লোম্যাটিক পদের মত মর্যাদাপূর্ণ চাকুরীর সুযোগ পাওয়ায় আর নির্বাচনে প্রার্থী হননি। এদিকে ইছমাইল উদ্দিনের মত তার ভাই বোনরাও বেশ মেধাবী। তার বড় বোন একজন ইমিগ্রেশন লয়ার, অপর দুই বোন মেডিকেলের শিক্ষার্থী।

ইছমাইল উদ্দিন নিজের এই সাফল্যের জন্য বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। আর সন্তানের এমন সাফল্য নিয়ে পিতা জমির উদ্দিন বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা তিনি আমাকে নেক সন্তান দান করেছেন। ইছমাইল যেন ভবিষ্যতে প্রবাসী বাংলাদেশী ও বাংলাদেশের মানুষের মুখ আরোও উজ্জ্বল করতে পারে এই জন্য তিনি সবার কাছে দোয়া কামনা করেছেন।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রনঞ্জয়/এসডি-২৯