ছবি: সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ৬ জন জুলাই যোদ্ধার পরিচয় পাওয়া গিয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষ্যে তাদের সম্পর্কে জানা যায়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে শাল্লা উপজেলায় কোনো জুলাই আন্দোলন হয়নি। তবে ঢাকা এবং সিলেট জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়ে শাল্লায় ৬ জন সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত ও ভাতাপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
সরকারের প্রকাশিত জুলাই যোদ্ধার প্রথম গেজেটের সি গ্রেডে প্রতি মাসে ১০ হাজার করে ভাতা পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন জুলাই যোদ্ধারা।
শাল্লার এই ৬ জুলাই যোদ্ধার মধ্যে ৪ জন একই গ্রামের। এদের মধ্যে দু’জন আবার আপন ভাই। তারা হলেন, আটগাঁও ইউনিয়নের বড়গাঁও গ্রামের মো. ইসকান্দর মিয়া ও রুবিনা বেগমের দুই ছেলে তৌকির মিয়া (গেজেট নং ৪৪০) ও মো. রিয়ান মিয়া (৪৪২), মো. হাবিবুর রহমান ও হরবুল নেছার ছেলে মোশারফ হোসেন (গেজেট নং ৪৪১) ও এনামুল হক এবং আছিয়া বেগমের ছেলে দিপু মিয়া (৪৪৩)।
অপর দু’জন হলেন, একই ইউনিয়নের নিজগাঁও গ্রামের মো. আক্কাস আলী ও মোছা, সেলিনা আক্তারের ছেলে মো. রুবায়েদ মিয়া (গেজেট নং: ৪৪৪) ও হবিবপুর ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের মো. গোলাম রব্বানী ও রুহেনা বেগমের ছেলে মো. রেদুয়ান মিয়া (গেজেট নং: ৫০৭)।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শহীদ মিয়া জানান, ৫ আগস্ট ২০২৪ সালের পর ৫ আগস্ট ২০২৬ সাল অর্থাৎ জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস শাল্লায় পালন উপলক্ষ্যে আমরা জানতে পারি এই ৬জন জুলাই যোদ্ধা। কিন্তু তারা জুলাই যোদ্ধা হিসেবে কিভাবে কোথায় আন্দোলন করেছে- এই বিষয়ে হয়তো অনেকেই জানে না।
এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম (মাস্টার) বলেন, আমার জানামতে শাল্লায় কোনো জুলাই যোদ্ধা আছে বলে জানি না। আর জুলাই যোদ্ধা কে কে? এই প্রথম আপনার কাছ থেকে শাল্লায় ৬জন জুলাই যোদ্ধা আছে জানলাম। সরকারিভাবে গেজেটভুক্ত হলেও আমি জানতাম না।
জানতে চাইলে জুলাই যোদ্ধা তৌকির মিয়া বলেন, আমি গাজিপুরের সফিপুর লিডা গার্মেন্টসে চাকরি করা অবস্থায় আনসার একাডেমির সামনে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে অসংখ্য গুলিবিদ্ধ হই। এরপর গাজিপুর মর্ডান হসপিটালে চিকিৎসা নিয়ে জুলাই যোদ্ধার প্রথম লিষ্টের গেজেটভুক্ত হই। পরে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমরা ১লক্ষ টাকার চেক গ্রহন করি এবং সরকারের দেওয়া ১০ হাজার টাকা করে জুলাই যোদ্ধার ভাতা পাচ্ছি। আমি ও আমার আপন ভাই রিয়ান মিয়া দু'জনই জুলাই যোদ্ধা।
জুলাই যোদ্ধা রিয়ান মিয়া জানান, আমি বাড়ি (শাল্লা) থেকে মূলত ২আগস্ট জুলাই আন্দোলনে অংশ নেই গাজিপুর আনসার একাডেমির সামনে। ঐখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে তানহা হসপিটালে চিকিৎসা গ্রহন করি। পরে জুলাই যোদ্ধার তালিকাভুক্ত হই। জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে আমাদেরকে শাল্লা প্রোগ্রামে দাওয়াত দেয় এবং সম্মাননা স্মারক গ্রহন করি।
জুলাই যোদ্ধা মোশারফ মিয়া জানান, ৩, ৪ ও ৫ আগস্ট গাজিপুর আনসার একাডেমির সামনে জুলাই আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেই। পুলিশ ও আনসার দু'দিকে গুলি শুরু করলে তাদের ছোড়া গুলি ও লাঠিসোটার আঘাতে পায়ে ও পিঠে গুলিবিদ্ধ হই। পরে সফিপুর তানহা হসপিটাল ও সিলেট ওসমানী মেডিকেলে চিকিৎসা নেই। আমরা কাগজ পত্র দিয়ে প্রথমেই গেজেটভুক্ত হয়ে এবং সি গ্রেড হিসেবে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা পাচ্ছি।
জুলাই যোদ্ধা দিপু মিয়া জানান, আমি গাজীপুর পাশাগেইট জুতা কোম্পানি ব্লুউসন ফ্যাক্টরীতে চাকরি করতাম। আমরা চাচাতো তিন ভাই আমি, তৌকির ও রিয়ান) এবং এক ভাতিজা মোশারফ মিলে একসাথে আন্দোলন করেছি গাজীপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেইটে। ৩ আগস্ট কোনো কিছু ঐখানে হয়নি, ৪আগস্ট পুলিশ ও আনসারের গুলিতে শরীরের বিভিন্ন অংশে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর আর যাইনি। পরে মডার্ন, তানহা ও সিলেট ওসমানী হসপিটালে চিকিৎসা করে শাল্লা ইউএনও অফিসে কাগজ পত্র জমা দেই। আমরা ৭জন জুলাই যোদ্ধা ছিলাম তবে একজনের পর্যাপ্ত ডকুমেন্টস না থাকায় হয়তো তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার ৫ আগস্ট কি দিবস পালন করেছে এই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐদিন স্বৈরাচার গেছিল বিদায় অইয়া বাংলাদেশ থাইক্যা৷
জুলাই যোদ্ধা রেদুয়ান মিয়া জানান, আমি ভাটি বাংলা কলেজে পড়তাম৷ জুলাই আন্দোলনের সময় সিলেট বন্দর লালদিঘিরপাড়ে ৪ আগস্ট আমাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে আমি গুলিবিদ্ধ হই। সোবহানিঘাট ইবনে সিনা হসপিটালে চিকিৎসা করেছি এখনও আমার মাথার মধ্যে ৫ গুলি রয়েছে, ডাক্তার বলছেন অপারেশন করলে সমস্যা হবে। এভাবেই চলছি তবে সরকার থেকে ১০হাজার টাকা ভাতা ব্যতীত আর কোন সহযোগিতা পাইনি৷ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি পরিপূর্ণ রিপোর্ট দিতে পারি নাই, জাস্ট ফটোতোলা প্রেসক্রিপশন, নাম ও আহতের ছবি শাল্লাতে জমা দিয়েছিলাম৷ গণঅভ্যুত্থান দিবসে আমরা শাল্লা থেকে সম্মাননা গ্রহন করি এবং যাতায়াত ভাতা বাবদ ৫০০ টাকা দেওয়া হয়েছে। সরকারের কাছে চাওয়া হচ্ছে আমাদের জুলাই সনদ যেন বাস্তবায়ন হয়।
জুলাই যোদ্ধা রুবায়েদ মিয়াকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি৷
এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, সরকারিভাবে গেজেটেড ও ভাতাপ্রাপ্ত জুলাই যোদ্ধা শাল্লায় ৬জন। সাত জন ছিল একজন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসের অভাবে তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদেরকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে চিঠি ও ফোনে দাওয়াত করা হয়েছে এর মধ্যে তিনজন আসছিল বাকীরা কর্মক্ষেত্রে থাকায় আসতে পারেনি৷
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে




