দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ে করেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও জর্জিনা রদ্রিগেজ। পর্তুগালের কাসকাইসে এক একান্ত পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এই জুটি।
 

একাধিক সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, বিয়ের অনুষ্ঠানে কেবল তাদের পাঁচ সন্তান এবং খুব ঘনিষ্ঠ কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন উপস্থিত ছিলেন।


অনুষ্ঠানের চরম গোপনীয়তাই সমর্থকদের মনে এক নতুন কৌতূহলের জন্ম নিয়েছে। নিজের জীবনের অন্যতম সেরা এই দিনে রোনালদো যদি পরিবারের বাইরে মাত্র কয়েকজনকে বেছে নেন, তবে কারা স্থান পাবেন সেই সংক্ষিপ্ত তালিকায়?
 

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মার্কা’ সমর্থকদের কৌতূহলের বিষয়টি বিবেচনা করে রোনালদোর অতি ঘনিষ্ঠ পাঁচ ব্যক্তির একটি তালিকা করেছে।

সংবাদমাধ্যমটি নিশ্চিত করেছে, রোনালদোর বিয়ের কোনো অফিসিয়াল অতিথি তালিকা প্রকাশিত হয়নি এবং ঠিক কারা কারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়েও কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে রোনালদোর জীবনের নানা অধ্যায় পর্যালোচনা করলে কয়েকটি নাম উঠে আসে, যারা অনেক বছর ধরে তার ঘনিষ্ঠ হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রেখেছেন। তাদের নিয়ে করা হয়েছে এই তালিকা। সে তালিকায় কারা আছেন-
 

হোসে সেমেদো: বিখ্যাত হওয়ার আগের বন্ধু
অতিথির তালিকা যদি একদম সংক্ষিপ্ত করা হয়, তবে হোসে সেমেদোর নাম বাদ দেওয়া প্রায় অসম্ভব। স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে খেলার সময়, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় তারকা হওয়ার অনেক আগেই কিশোর বয়সে দুজনের পরিচয়। ২০১৩ সালে রোনালদোর ঘরোয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠানসহ তার জীবনের প্রতিটি ব্যক্তিগত উদযাপনে সেমেদোর উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়।
 

পেপে: যৌথ জয়ের সুতোয় বাঁধা এক ভাই
ফুটবল ক্যারিয়ারের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলোতে রোনালদোর পাশে পেপের চেয়ে বেশি কেউ ছিলেন না। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে একাধিক চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে ইউরোপ শাসন করা থেকে শুরু করে, ইউরো ২০১৬-এর ঐতিহাসিক ট্রফি ও পরবর্তী সময়ে উয়েফা নেশনস লিগ জয়- জাতীয় দলের জার্সিতেও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়েছেন তারা। ক্যারিয়ারের প্রতিটি প্রধান অধ্যায়ের সাক্ষী হিসেবে কাউকে পাশে রাখতে চাইলে পেপেই হবেন রোনালদোর প্রথম পছন্দ।
 

রিকার্দো রেগুফে: রোনালদোর সবচেয়ে বিশ্বস্ত আস্থাভাজন
বছরের পর বছর ধরে এই পর্তুগিজ তারকার অন্যতম কাছের বন্ধু ও পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন রেগুফে। স্পটলাইটের অন্তরালে থেকেই রোনালদোর ক্যারিয়ারের প্রতিটি চড়াই-উতরাইয়ে ছায়া হয়ে থেকেছেন তিনি। ২০২৩ সালেও রোনালদোর একান্ত ব্যক্তিগত জন্মদিনের পার্টিতে তার উপস্থিতি প্রমাণ করে- সবচেয়ে বিশ্বাসী মানুষদের তালিকা যখন ছোট হয়ে আসে, সেখানে রেগুফের স্থান নিশ্চিত।
 

মার্সেলো: সতীর্থ থেকে পরিবারের সদস্য
রিয়াল মাদ্রিদ সমর্থকদের জন্য মার্সেলো ও ক্রিশ্চিয়ান রোনালদোর জুটি ছিল ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও সফল রসায়ন। ব্রাজিলের এই লেফট-ব্যাক এবং পর্তুগিজ মহাতারকা প্রায় এক দশক ধরে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে দুশ্চিন্তায় রেখে করেছেন গোল, জিতেছেন একের পর এক ট্রফি। রোনালদোর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আনন্দময় ও সফল সময়ের প্রতিনিধি হিসেবে এমন ব্যক্তিগত আয়োজনে মার্সেলোর উপস্থিতি একপ্রকার নিশ্চিতভাবেই ধরে নেওয়া যায়।

ইভানা রদ্রিগেজ: জর্জিনার পরিবারের প্রতিনিধি
রোনালদোর কাছের বন্ধুদের পাশাপাশি স্থান পাওয়ার দাবিদার জর্জিনা রদ্রিগেজের পরিবারও। বিলাসিতাপূর্ণ জীবন, নেটফ্লিক্সের প্রামাণ্যচিত্র কিংবা বিশ্বব্যাপী খ্যাতি পাওয়ার বহু আগে থেকেই জর্জিনার জীবনের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ তার বোন ইভানা রদ্রিগেজ। পারিবারিক এমন অনুষ্ঠানে জর্জিনার পাশে বড় বোনের উপস্থিত থাকা অত্যন্ত স্বাভাবিক।

রোনালদো ও জর্জিনার বিয়ের ঘিরে পাওয়া প্রতিটি তথ্যই ইঙ্গিত দেয়- জাঁকজমক বা লোক-দেখানো প্রদর্শনী নয়, বরং গোপনীয়তা ও পারিবারিক আবহকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তারা। সন্তানদের কেন্দ্র করে আয়োজিত এই ছোট উদযাপনে উপস্থিত ছিলেন কেবল তাদের সবচেয়ে প্রিয় মানুষেরা।
 

আর এখানেই ফুটে ওঠে তারকার পেছনের আসল মানুষটির ছবি। কাল্পনিক কোনো তারকাখচিত তালিকার চেয়ে রোনালদোর এই অন্তরঙ্গ পরিবৃত্তটি তাই অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা নয়, বরং ব্যক্তি রোনালদো ও জর্জিনাকে যারা ভালোভাবে চেনেন, তাদের সান্নিধ্যেই সম্পন্ন হলো এই শুভ পরিণয়।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৭