ছবি: সিলেট ভিউ।
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ বিদ্যুৎ অফিসে (পিডিবি) হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ও দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবিতে দুই শতাধিক গ্রাহক বিক্ষোভ নিয়ে এ হামলা চালান। এতে বিদ্যুৎ অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে ঈশ্বরগঞ্জ পৌর শহরের পিডিবি আবাসিক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা অফিসের দরজা-জানালা, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী ভাঙচুর করেন। এ সময় পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিমকে লাঞ্ছিত ও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শিমরাইল গ্রামের একটি ট্রান্সফরমার বিকল হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা।
বিদ্যুৎ না থাকায় গভীর নলকূপ ও পানির পাম্প চালানো যাচ্ছে না। ফলে অনেক পরিবারে খাবার পানির সংকট দেখা দিয়েছে। ফ্রিজ না চলায় সংরক্ষিত খাবার নষ্ট হচ্ছে। বিদ্যুতনির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ক্ষতির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।
শিমরাইল গ্রামের বাসিন্দা আতিকুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ‘নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য পিডিবি অফিসে বারবার যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। এর মধ্যে নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তারপরও এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে ঘরে থাকা যাচ্ছে না। শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছি। পানির সংকটও দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এভাবে বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।’
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানপাটে বেচাকেনা কমে গেছে। বিদ্যুৎনির্ভর ব্যবসা প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে অনেক ব্যবসায়ী আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রায় এক মাস আগেও শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমারটি নষ্ট হয়েছিল। তখন নতুন ট্রান্সফরমার না দিয়ে একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়। সেটিও কিছুদিন পর বিকল হয়ে যায়। এরপর নতুন ট্রান্সফরমারের জন্য একাধিক যোগাযোগ করেও সমাধান না পাওয়ায় ক্ষোভ বাড়তে থাকে।
ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবির উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম বলেন, ‘কিছু বুঝে ওঠার আগেই বিক্ষুব্ধ লোকজন আমার ওপর হামলা করে। গ্রাহকরা ট্রান্সফরমারের জন্য ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার যে অভিযোগ করেছেন, তা ভিত্তিহীন। তবে লাইন সংযোগ ও মেরামতের কাজে লাইনম্যানদের কিছু খরচাপাতি বিভিন্ন জায়গা থেকে নেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এলাকাবাসী মূলত নতুন ট্রান্সফরমার চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের বিভাগে ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় একটি পুরোনো ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছিল। এ কারণেই তারা ক্ষুব্ধ হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর করেছেন।’
ঈশ্বরগঞ্জ পিডিবির আবাসিক প্রকৌশলী হামজা ইমাম বলেন, ‘শিমরাইল গ্রামের ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু ট্রান্সফরমারের সংকট থাকায় নতুন ট্রান্সফরমার পেতে কিছুটা দেরি হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত রাতেই একটি ট্রান্সফরমার এসেছিল। কিন্তু সেটি পুরোনো হওয়ায় এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এ সময় আমাদের উপসহকারী প্রকৌশলী রেজাউল করিম আহত হয়েছেন।’
হামজা ইমাম জানান, দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে শিমরাইল গ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল আজম বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আবাসিক প্রকৌশলী দ্রুত নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিলে বিক্ষুব্ধ লোকজন ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৬




