ছবি: সিলেট ভিউ।

জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজের মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জের চাম্পা (৪৮) নামে এক নারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চাম্পাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 


পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে করিমগঞ্জ উপজেলার সিন্দ্বীপ গ্রামের হালিমা (৬৫) খাওয়া-দাওয়া শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যান। পরদিন সকালে তার মেয়ে চাম্পা মায়ের ঘরের দরজায় বাইরে থেকে শিকল লাগানো দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে মাকে না পেয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ উত্তর পাশের একটি পতিত জমিতে হালিমার মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান।

 

সেখানে গিয়ে স্বজনেরা দেখতে পান, হালিমার মাথার অংশ মাটিতে পুঁতে রাখা হয়েছে। তার নাক ও মুখে রক্তাক্ত জখম এবং গলায় সাদা রশি প্যাঁচানো ছিল। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে চাম্পা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে হত্যা ও আলামত গোপনের অভিযোগে করিমগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলাটি পরে পিবিআই তদন্ত শুরু করে।

 

পিবিআই জানায়, তদন্তে প্রযুক্তিগত তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য ও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করে মামলার বাদী চাম্পার ওপর সন্দেহ হয়। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়।

 

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে হালিমা প্রতিবেশী বিল্লালের কাছ থেকে সাড়ে তিন শতাংশ জমি কিনে সেখানে বসবাস শুরু করেন। তবে ওই জমির কোনো দলিল হয়নি। পরে বিল্লাল জমিটি অন্য একজনের কাছে বিক্রি করলে জমি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। এ নিয়ে হালিমার সঙ্গে বিল্লালসহ অন্যদের একাধিকবার ঝগড়া ও মারামারি হয়।

 

ঘটনার প্রায় ১৫ দিন আগে পূর্ববিরোধের জেরে বিল্লাল হালিমাকে মারধর করলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন প্রতিশোধ নেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশীদের নামে হত্যা মামলা দিয়ে জমিটি পাওয়ার পরিকল্পনা করেন চাম্পা, এমন তথ্য পেয়েছে পিবিআই।

 

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ রাতে সহযোগীদের নিয়ে চাম্পা তার মাকে ঘর থেকে ডেকে বের করেন। এরপর সহযোগীরা হালিমাকে হত্যা করে মরদেহের মাথা মাটিতে পুঁতে রাখে। পরদিন চাম্পাই মরদেহ উদ্ধারের পর প্রতিবেশী বিল্লালসহ অন্যদের আসামি করে মামলা করেন।

 

পিবিআই জানায়, দীর্ঘ তদন্তের পর গত ১৮ আগস্ট চাম্পাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি কিশোরগঞ্জের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

পিবিআই কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মাসুদ বলেন, জমি নিয়ে পূর্বশত্রুতা থেকে প্রতিপক্ষকে মামলায় ফাঁসিয়ে জমি পাওয়ার আশায় নিজের মাকে হত্যা করা অত্যন্ত জঘন্য ও গর্হিত অপরাধ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাই করে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের চেষ্টা চলছে।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৭