ছবি: সংগৃহিত
সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে প্রায় ২০ একর জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।
এ বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগে দুইজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক পক্ষ দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করার পর রবিবার (২৩ আগস্ট) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছেও অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগকারী নির্মল তালুকদার (৫৯) উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। হামলার ঘটনায় তিনি ও মনোরঞ্জন তালুকদার (৫০) আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেন।
নির্মল তালুকদারের দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁও ও সুনামপুর গ্রাম সংলগ্ন নয়াগাঁও মৌজার জেএল নম্বর ১০-এর ৩ নম্বর দাগের প্রায় ২০ একর পতিত জমি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় লোকজন খেলার মাঠ, গোচারণ ভূমি ও কৃষিকাজসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ব্যবহার করে আসছেন। বর্তমানে জমিটি বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২১ আগস্ট দুপুর ২টার দিকে কয়েকজন ব্যক্তি ভিটবালু বোঝাই স্টিলের নৌকা, পাইপ ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে ওই জমিতে গিয়ে বালু দিয়ে ভরাটের প্রস্তুতি নেন। এসময় নির্মল তালুকদারসহ স্থানীয় লোকজন এতে আপত্তি জানান। পরে বালু ভরাটের কাজ বন্ধ করে নৌকা ও সরঞ্জাম নিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং সময়-সুযোগমতো দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এরপর ২২ আগস্ট আনুমানিক দুুপুর ২টার দিকে বাংলাবাজার এলাকায় নির্মল তালুকদার ও মনোরঞ্জন তালুকদারের উপর দলবদ্ধভাবে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ সময় লোহার রড, কাঠের রোল ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের মারধর করা হয়। এতে তারা শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এ ঘটনায় নির্মল তালুকদার বাদী হয়ে দিরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের পর রবিবার একই বিষয় নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন তিনি। ইউএনওর কাছে দেওয়া অভিযোগে জমিটি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টা বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন দাবি করেছেন অভিযুক্ত পক্ষের নুর হামিদ। তিনি বলেন, জায়গাটি খাস নয়। আমরা ২০১২ সালে ভাটিপাড়ার জমিদার বাড়ির বংশধরদের কাছ থেকে জমিটি কিনেছি। মিফতা উদ্দিন চৌধুরীসহ ১০-১২ জন মালিকের কাছ থেকে মাছিমপুর, রফিনগর, মির্জাপুর ও ছাদিরপুর গ্রামের ৭০-৮০ পরিবারের লোক মিলে জমি ক্রয় করেছেন। জমির নামজারিও করা হয়েছে।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার বলেন, বিষয়টি নিয়ে এমপির সঙ্গে কথা হয়েছে। আশা করি, আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/হিল্লোল/ইকে-০১




