হবিগঞ্জ সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের কালীগঞ্জ বাঁধে দেড় মাস পর আবারো ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় কয়েকটি গ্রামের রাস্তা ঘাট ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে।
 

এতে হবিগঞ্জ সদর ও বাহুবল উপজেলা অন্তত্ব অর্ধশতাধিক গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।


এর আগে গত ৯ জুলাই রাতে একই বাধ ভেঙ্গে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে মাছের ঘের, ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওযায় শত কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েন ওই এলাকার বাসিন্দারা। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ড ৮২ লাখ টাকা ব্যায়ে বাঁধ মেরামত শুরু করলেও এতে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় সূত্র জানায়, রবিবার সকাল ১১ টার দিকে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে খোয়াই নদীর পানি চুনারুঘাটের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমা ১৩০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে প্রবল বেগে আসা পানির চাপে খোয়াই নদীর কালীগঞ্জ বাঁধ ভেঙ্গে যায়। এরপর থেকে দ্রুত বেগে লোকালয়ে ঢুকছে পানি। এখন পর্যন্ত সুঘর, চরহামুয়া, বনগাও, আদ্যপাশসহ কয়েকটি গ্রামের রাস্তা-ঘাট ও ফসলী জমি তলিয়ে গেছে। রাতেই মধ্যে অন্তত্ব ২০/২৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাসা বাড়ি থেকে আসবাব পত্র সরিয়ে নিয়েছেন। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ  নিরাপদ স্থানে উঠেছেন।
 

এদিকে, গত ৯ জুলাই বাঁধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ৮২ লাখ টাকা মেরামতের কাজ শুরু করে হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। দীর্ঘ ৪৩ দিন অতিবাহিত হলেও কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কাজে ধীরগতি ও অনিয়মের ফলেই নদীতে পানি আসা মাত্রই বাধটি পুনরায় ভেঙ্গে যায় বলে দাবী স্থানীয়দের।

সুঘর গ্রামের বাসিন্দা সুমন মিয়া বলেন, ‘সঠিক সময়ে বাঁধ মেরামত না হওয়ায় আমাদের দ্বিতীয় বার ভাঙ্গনের কবলে পড়তে হয়েছে। বাড়ির চারপাশের হাওরের পাকা ধান তলিয়ে গেছে। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা।’
 

চরহামুয়ার আব্দুল হক বলেন, ‘মাত্র দেড় মাসের ব্যবধানে বাঁধটি আবারও ভেঙ্গে গেল। গত বন্যায় কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছিল সেটি তারা এখনো পুষিতে উঠতে পারেননি।’

বনগাও গ্রামের শফিক মিয়া বলেন, ‘বাঁধ মেরামতের কর্তৃপক্ষের অবহেলা রয়েছে। তা না হলে বাঁধ মেরামতের এতোদিন লাগার কথা নয়। বাঁধ ভেঙ্গে যাওযায় সকলের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়েছে। অনেকেই বাসা-বাড়ি ছাড়তে শুরু করেছে।’
 

হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাইদুর রহমান বলেন, ‘আমরা বাঁধ পরিদর্শন করেছি। ভারতের ত্রিপুরায় প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারনে উচ্চ বেগে পানি প্রবেশ করেছে। যার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই খোয়াই নদীতে পানি চলে আসায় বাধঁটি ভেঙ্গে গেছে। পানি কমলে দ্রুত সময়ের মধ্যে বাঁধ মেরামতের চেষ্টা করা হবে।’

বাঁধ মেরামতে অনিয়ম ও কাজে ধীরগতির অভিযোগ রয়েছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের জানামতে এখন পর্যন্ত কোন অনিয়ম হয়নি। আমরা বাঁধ মেরামতের কাজ দ্রুত সময়ে করার চেষ্টা করেছি। প্রায় ৫০% কাজ সম্পন্ন করা হয়েছিল। তবে বর্ষার মৌসুমে প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকির/এসডি-০৯