এক ব্যবসায়ীকে অপহরণের পর আটকে রেখে অশ্লীল ভিডিও ধারণ এবং ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ‘হানিট্র্যাপ’ চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পঞ্চগড় পুলিশ।
 

রবিবার (২৩ আগস্ট) গ্রেপ্তারের পর আসামিরা আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।


গ্রেপ্তাররা হলেন- দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার রামপুর এলাকার মো. আবু রায়হান হৃদয় (২৪) এবং পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার মোছা. সুরাইয়া পারভীন স্বরনী (১৯)।
 

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল গেটের সামনে থেকে ওই ব্যবসায়ীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ৪-৫ জনের একটি হানিট্র্যাপ চক্র। পরে তাকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে জোরপূর্বক অশ্লীল ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দিয়ে সম্মানহানি করার ভয় দেখিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। পরবর্তীতে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বাদী হয়ে পঞ্চগড় সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
 

মামলার পর পুলিশ তদন্তে নেমে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করে। রোববার আবু রায়হান হৃদয় ও সুরাইয়া পারভীন স্বরনীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। আসামিদের পঞ্চগড় চিফ জুডিসিয়াল আদালতে সোপর্দ করা হয়। বিজ্ঞ আদালতে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন তারা।

ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যবসার কাজে গত ২৭ জুলাই রাত ৮ টার দিকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের গেটের সামনে থেকে ৩ জন আমাকে অজ্ঞাত স্থানে ধরে নিয়ে যায়। সেখানে বিবস্ত্র করে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও করে। পরে সেখান থেকে মিলগেট এলাকায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ব্ল্যাকমিল করে জোরপূর্বক আমার কাছে থাকা নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ ও বিকাশের মাধ্যমে আরও দুই দফায় টাকা নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ছেড়ে দেয়। পরবর্তীতে আমি থানায় ওই ঘটনার অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার প্রত্যাশা করছি।’
 

পঞ্চগড় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মকলেছ জানান, অপহরণ মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে হানিট্রাপ চক্রের দুজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে টাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৯