ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় নগর পরিকল্পনায় চারটি শহর ও চারটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে। প্রস্তাবিত তালিকা থেকে বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জকে আপাতত বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। তাঁদের মতে, শহরের সঙ্গে দূরত্ব, সেবা গ্রহণের জটিলতা এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আপাতত এসব উপজেলাকে উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে রাখা প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম ও অস্থায়ী কার্যালয়ের উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত সুধী সমাবেশে তাঁরা এ আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা জানান, নগর পরিকল্পনার আওতায় সিলেটের চারটি শহর ও চারটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, সেখানে তাঁর নির্বাচনী এলাকার বিশ্বনাথ উপজেলাকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিশ্বনাথকে যেন নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় নেওয়া না হয়, সে বিষয়ে তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নগর পরিকল্পনার মধ্যে যে চারটি শহর ও চারটি উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তার মধ্যে আমার বিশ্বনাথ উপজেলাও রয়েছে। আমি আহ্বান জানাবো, বিশ্বনাথ যেন নগর উন্নয়নের আওতায় না আসে।’
তাহসিনা রুশদীর লুনা বলেন, বিশ্বনাথ সিলেট শহর থেকে বেশ দূরে। ফলে ওই এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য নগর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে এসে সেবা নেওয়া কঠিন হয়ে যাবে। বিশ্বনাথকে যেন এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত করা না হয়।’
এদিকে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী জানান, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় গোলাপগঞ্জকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গতকাল থেকে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে তিনি ফোন পেয়েছেন বলে জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে সিলেট সিটি কর্পোরেশনকেই সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতায় রাখা হোক। গোলাপগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো পরবর্তীতে প্রয়োজন ও বাস্তবতা বিবেচনা করে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ‘গোলাপগঞ্জের মানুষ পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদে নিয়মিত কর প্রদান করেন। সেই রাজস্বের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়ার বিষয়ে জনগণের ন্যায্য প্রত্যাশা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের কাছ থেকে প্রাপ্ত রাজস্ব নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নে ব্যয় করার সুযোগ পাওয়া উচিত।’
তাই তিনি গোলাপগঞ্জসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলাকে আপাতত সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতার বাইরে রাখার জন্য সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং এলাকাবাসীর উদ্বেগের প্রতি যথাযথ দৃষ্টি দেবে।
অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল মালেক, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক মোহাম্মদ বদরুজ্জামান সেলিম এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৬




