ময়মনসিংহের গৌরীপুরে স্বেচ্ছাসেবক লীগ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বনে যাওয়া মো. জিএম সরকার জুয়েলের নেতৃত্বাধীন রামগোপালপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

 


অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জুয়েলের কমিটি অনুমোদন করা উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়ন শাখা স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে।

 


৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক (দায়িত্বপ্রাপ্ত দপ্তর সম্পাদক) ফারুক আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 

এদিকে ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ও উপজেলা কমিটির সাথে সমন্বয় না করে রামগোপালপুর ইউনিয়নের ৬ ও ৩ নং ওয়ার্ড শাখা স্বেচ্ছাসেবকদলের কমিটি ঘোষণা করায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকদলের আহ্বায়ক মঞ্জরুল হক মঞ্জু ও সদস্য সচিব সেলিম ভুঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করেছে গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দল।

 

৩ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মাসুম বিল্লাহ সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কারণ দর্শানোর সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

 


স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. জিএম সরকার জুয়েল রামগোপালপুর ইউনিয়ন শাখা স্বেচ্ছাসেবক লীগ কমিটির ৯ নং সদস্য।

 

গত ১৯ মে উপজেলার রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩নং ওয়ার্ড কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটিতে মো. জিএম সরকার জুয়েলকে সভাপতি ও মো. বাবু মিয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে ১১ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

 

বিষয়টি নজরে আসার পর স্বেচ্ছাসেবক দল ময়মনসিংহ উত্তর জেলা শাখা গত (৩১ আগস্ট) জিএম সরকার জুয়েলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।

 

অন্যদিকে গত ১ সেপ্টেম্বর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক-১ উমর ফারুক স্বাধীন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ৭নং রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য জিএম সরকার জুয়েলকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

 

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ভাবমূর্তি নষ্ট করার অভিযোগে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক মো. সোহেল রানার সিদ্ধান্ত অনুমোদনক্রমে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জিএম সরকার জুয়েল বলেন, ‘আমি স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলাম। ২০২৪ সালে জুলাই আন্দোলনে সময় ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসররা যখন আমার ছাত্রভাইদের হত্যা করা শুরু করে তখন আমি রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মঞ্জুরুল হক মঞ্জুর সঙ্গে রাজপথে থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সক্রিয় ছিলাম। যাচাই-বাছাই করেই আমাকে স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটিতে সভাপতি বানানো হয়েছে। আজ কমিটি স্থগিতের বিষয়টি জেনেছি। সংবাদ সম্মেলন করে সার্বিক বিষয়ে আমি আমার বক্তব্য তুলে ধরবো।’

 

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উমর ফারুক স্বাধীন বলেন, ৫ আগস্টের কয়েকদিন পূর্বেই জুয়েলকে রামগোপালপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটিতে ৭ নম্বর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বর্তমানে সে স্বেচ্ছাসেবক দলের ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি হয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আতাউর রহমান আল-আমিন বলেন, জেলা ও উপজেলা কমিটির সাথে সমন্বয় না করে রামগোপালপুর ইউনিয়নে ৩ ও ৬ নং ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করায় ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের কার্যক্রম স্থগিত করে কমিটির আহ্বায়ক এবং সদস্য সচিবকে শোকজ করা হয়েছে। পাশাপাশি জুয়েলকে সভাপতি করে ঘোষিত ৩ নং ওয়ার্ড কমিটির কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক