ছবি: সিলেট ভিউ।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে বাড়ির বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে মারধর, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর তা প্রত্যাহারে চাপ ও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী মুন্নি আক্তার। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাংবাদিক সমিতির কমলগঞ্জ ইউনিট কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

 


মুন্নি আক্তার উপজেলার শমশেরনগর ইউনিয়নের বাদে সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি অভিযোগ করেন, স্বামী প্রবাসে থাকায় তিন সন্তান নিয়ে বাড়ির দেখভালসহ যাবতীয় দায়িত্ব তিনি একাই পালন করে আসছেন।

 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মুন্নি আক্তার বলেন, পার্শ্ববর্তী বাড়ির রফি মিয়ার ছেলে সাকিল মিয়া (২৩), রফি মিয়া (৪৮), শুকুর মিয়া (২৫) ও রফি মিয়ার স্ত্রী হেনা বেগম (৪৩) দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির সীমানায় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য তাকে চাপ দিয়ে আসছেন। দেয়াল নির্মাণ না করায় বিভিন্ন সময় তারা গালিগালাজ ও হুমকি-ধমকি দেন। এমনকি রাতের বেলায় ঘরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, গত ২৪ আগস্ট সোমবার রাত ৯টার দিকে সাকিল মিয়া তাকে ডেকে ঘর থেকে বের করেন। এ সময় বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। স্বামী বিদেশ থেকে দেশে ফেরার পর দেয়াল নির্মাণ করবেন বলে জানালে সাকিল মিয়াসহ অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে তারা লোহার রড ও বাঁশের লাঠি দিয়ে তাকে মারধর, কিল-ঘুষি এবং টানাহেঁচড়া করেন। এতে তার বাম হাতে রক্তাক্ত জখম হয় বলে দাবি করেন তিনি।

 

মুন্নি আক্তারের অভিযোগ, মারধরের পর সাকিল মিয়াসহ অন্যরা তার ঘরে প্রবেশ করে স্টিলের আলমিরা ভাঙচুর করেন। এ সময় আলমিরায় থাকা এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় তারা। হামলায় আহত হয়ে তিনি কমলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন। পরদিন ২৫ আগস্ট মৌলভীবাজার আদালতে সাকিল মিয়াসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন বলে জানান তিনি।

 

মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন মুন্নি আক্তার। তিনি বলেন, হুমকির কারণে বাধ্য হয়ে তিনি ‘সাতধারা’ মামলা দায়ের করেছেন। এরপরও প্রতিপক্ষ তাদের আত্মীয়স্বজনকে নিয়ে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভয়ভীতি সৃষ্টি এবং পরোক্ষভাবে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিয়ে যাচ্ছে।

 

এছাড়া গ্রামের আবু তাহের ও বক্কর মিয়াসহ কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন পোস্ট দিয়ে দুর্নাম ছড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে মামলার তদন্ত, মামলা পরিচালনা এবং ন্যায়বিচার বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন মুন্নি আক্তার। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

 

এ বিষয়ে সাকিল মিয়াসহ অভিযুক্তরা মুন্নি আক্তারের অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, মূলত বাঁশ কাটা নিয়ে তাদের সঙ্গে ঝগড়া হয়েছিল। তবে কোনো ধরনের মারামারি, হামলা, লুটপাট কিংবা মামলার অভিযোগের মতো ঘটনা ঘটেনি।

 

বাকী অভিযুক্তরা বলেন, মুন্নি আক্তার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে একটি ঘটনা সাজিয়ে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনাটি এলাকার কেউই জানেন না বলেও দাবি করেন তারা। মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের হয়রানি ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন অভিযুক্তরা।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/ এহিয়া-০৯