ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মহাসড়কটি ছয় লেনে সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এর আওতায় নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুর থেকে সিলেটের লালাবাজার পর্যন্ত বিদ্যমান দুই লেন মহাসড়ক ছয় লেন হচ্ছে। কিন্তু লালাবাজার থেকে সিলেট কদমতলী বাস টার্মিনাল (শহর) অংশটি থেকে যাচ্ছে দুই লেন। এতে মহাসড়কের এই অংশটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লালাবাজার-কদমতলী টার্মিনাল অংশ চার লেনের প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হলেও এখনো মিলেনি অনুমোদন।
সওজ সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট করিডোর সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে প্রায় ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেন হলেও প্রকল্পের বাইরে রয়েছে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার লালাবাজার-কদমতলী বাস টার্মিনাল অংশ। ছয় লেনের কাজ লালাবাজার আসার পর ডানে মোড় নিয়ে চলে যাবে পারাইরচকস্থ পীর হবিবুর রহমান চত্বরে। সেখান থেকে শ্রীরামপুর বাইপাস হয়ে সড়কটি যুক্ত হবে তামাবিল মহাসড়কে।
সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে একনেক সিলেট-ঢাকা ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। প্রকল্পটির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হবে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে থমকে আছে অনেক স্থানের কাজ। ছয় লেনের কাজ এগিয়ে যাওয়ার সাথে সাথে প্রশ্ন ওঠছে বিদ্যমান মহাসড়কের লালাবাজার-কদমতলী বাস টার্মিনাল অংশ নিয়ে।
পরিবহন শ্রমিকরা বলছেন, মহাসড়কটি ছয় লেন হলে সিলেটের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। এতে সিলেটে পর্যটক আগমন বাড়বে। মহাসড়কে বাড়বে যান চলাচলের চাপ। ছয় লেন দিয়ে আসা যানবাহনের মধ্যে কেবলমাত্র ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান লালাবাজার এসে পীর হবিবুর রহমান চত্বর দিয়ে বের হবে।
কিন্তু বাকি সকল যানবাহন সিলেট শহর অভিমুখে যাবে। এতো গাড়ির চাপ দুই লেন সড়ক কোনভাবেই নিতে পারবে না। তাই কদমতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি ছয় লেন করা প্রয়োজন। এটা করা না গেলে মহাসড়কের ওই অংশ যানজটে অচল হয়ে পড়বে। বাড়বে দুর্ঘটনাও। মহাসড়কের লালাবাজার-কদমতলী বাস টার্মিনাল অংশটি এমনেিতই দুর্ঘটনাপ্রবণ। এই অংশে প্রতিমাসেই একাধিক দুর্ঘটনা ঘটে। তাই এই অংশ প্রশস্ত করা না হলে ছয় লেনের যানবাহনের চাপ নিতে না পেরে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়বে।
এদিকে, সওজের পক্ষ থেকে লালাবাজার-টার্মিনাল অংশ চার লেনের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছিল মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রস্তাবনার কোন অগ্রগতি হয়নি। মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাবটি অনুমোদন দেয়া হয়নি। .
সিলেট জেলা বাস-মিনিবাস-কোচ-মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম বলেন, ছয় লেন হওয়ার পর সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যান চলাচল বাড়বে। ছয় লেন দিয়ে আসা গাড়ির চাপ কোনভাবেই দুইলেন নিতে পারবে না। এতে লালাবাজার থেকে কদমতলী টার্মিনাল পর্যন্ত সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠবে। যানজট সৃষ্টির পাশাপাশি দুর্ঘটনারও আশঙ্কা বাড়বে। তাই কদমতলী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত মহাসড়কটি ছয় লেন করা প্রয়োজন।
সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খায়রুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন জানান, ছয় লেন দিয়ে সিলেট শহরে আসা গাড়িগুলো যাতে নির্বিঘ্নে আসতে পারে সেজন্য লালাবাজার থেকে হুমাযূন রশিদ চত্বর পর্যন্ত চারলেন করার প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো অনুমোদন হয়নি। অনুমোদন পেলে কাজ শুরু হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




