সিলেটের রাস্তায় যেন বন্ধ হচ্ছে না পুলিশ-হকার লুকোচুরি। প্রায় প্রতিদিনই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চলছে। হকারদের ধরে ভ্রাম্যমান আদালতে সোর্পদ করছে পুলিশ। এরপর জেল-জরিমানা। তবুও বেপরোয়া হকাররা।
পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট চলে যাওয়ার ঘন্টা পেরোনোর আগেই তারা ফিরছে সড়কে। এতে সড়কে যানজট কমছে না। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে পথচারীদেরও।
সিলেটের সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকারদের উচ্ছেদের দাবি অনেক পুরানো। এই দাবিতে নগরীতে অনেক আন্দোলন সংগ্রাম হয়েছে। পুনর্বাসনের জন্য নগরের লালদিঘীর বিশাল মাঠে হকারদের বসার জায়গা করে দিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। কয়েকদিন সেখানে শৃঙ্খলভাবে ছিলেন তারা। কিন্তু ফের তারা সড়কে নেমেছেন। গত প্রায় একমাস ধরে নগরীর সড়ক ও ফুটপাত ফের হকারদের দখলে চলে গেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত হকাররা দাপটের সাথে নগরীর ব্যস্ততম সড়কে পসরা সাজিয়ে বসেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের আম্বরখানা, জিন্দাবাজার, বন্দরবাজার, মদিনামার্কেট, রিকাবিবাজার, সুবিদবাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলোর উভয় পাশে ও ফুটপাতে হকারার নানা রকম পণ্য সাজিয়ে বসেছেন। কেউ সড়কে প্লাস্টিক বিছিয়ে ব্যবসা করছেন, কেউ আবার ভ্যানগাড়িতে পণ্য রেখে কেনাবেচা করছেন। সড়কের একাংশ ও ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। ফুটপাত দখল হওয়ায় পথচারীদের হাঁটতে গিয়েও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে, হকার উচ্ছেদে প্রায় প্রতিদিনই জেলা প্রশাসন, সিসিক ও পুলিশ মিলে অভিযান করছে। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হকারদের আটক করে জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। জব্দকৃত মালামাল সিটি করপোরেশনের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায়। আর সাজাপ্রাপ্ত হকারকে থানায় নিয়ে পরে জেলে প্রেরণ করছে পুলিশ। কিন্তু এতো অভিযান ও জেল-জরিমানার পরও হকাররা রাস্তা ছাড়তে নারাজ।
এদিকে, একদল সড়কে বসায়, লালদিঘীরপাড় অস্থায়ী মার্কেটে বসা হকাররাও ফিরতে শুরু করেছেন সড়কে। তাদের দাবি, সড়কে হকার থাকলে ভেতরের মার্কেটে ক্রেতারা যান না। সড়ক থেকে হকার পুরোপুরি উচ্ছেদ করা না গেলে মার্কেটে কেউ থাকবে না।
আনোয়ার হোসেন নামের এক হকার জানান, তিনি লালদিঘীরপাড় অস্থায়ী হকার মার্কেটে ফল বিক্রি করতেন। কিন্তু এখন অনেক হকার বন্দরবাজার এলাকার সড়ক ও ফুটপাতে বসছেন। তাই ক্রেতা মার্কেটের ভেতরে যায় না। এজন্য তিনিও সড়কে চলে আসছেন। অভিযান, জেল-জরিমানার ভয় আছে, কিন্তু পেটের দায়ে আইন অমান্য করে তিনিও সড়কে ভ্যানগাড়ি নিয়ে ফল বিক্রি করছেন।
এ ব্যাপারে সিসিকের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, হকার উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান চলছে। হকাদের জন্য লালদিঘীরপাড়ে সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। তাদেরকে নির্ধারিত স্থানে যেতেই হবে। সড়ক ও ফুটপাতে তারা বসলে অভিযান চলবেই। আগামীতে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মো. মনজুরুল আলম জানান, প্রায় প্রতিদিনই অভিযান চালিয়ে হকারদের আটক করা হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ




