বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিশেষ ওষুধ এবং এসব ওষুধ তৈরির উপাদান আমদানিতে বাংলাদেশ ও ভারতসহ ২০টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর কোনো পণ্যভিত্তিক শুল্ক আরোপ করবে না যুক্তরাষ্ট্র। এনডিটিভির প্রতিবেদন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের প্রকাশিত তালিকায় এসব দেশ ও অঞ্চলের নাম রয়েছে।
 

পণ্যভিত্তিক শুল্ক বলতে কোনো পণ্যের মূল্য ধরে নির্দিষ্ট শতাংশ হারে আরোপ করা শুল্ককে বোঝায়। বিশ্ব শুল্ক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পণ্যের আর্থিক মূল্যের ভিত্তিতে এ ধরনের শুল্ক নির্ধারণ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ ফেডারেল রেজিস্টারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাওয়া দেশ ও অঞ্চলের তালিকা প্রকাশ করেছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ এবং এসব ওষুধ তৈরির উপাদান আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর করার প্রস্তুতি নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
 


তবে তালিকাভুক্ত ২০ দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা নির্দিষ্ট যোগ্য পণ্য এ শুল্ক থেকে ছাড় পাবে।

শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকা পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিরল রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সব ধরনের নির্ধারিত ওষুধ। এর পাশাপাশি বন্ধ্যত্বের চিকিৎসার ওষুধ, কোষভিত্তিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ, জিনভিত্তিক চিকিৎসার ওষুধ এবং অ্যান্টিবডি-ভিত্তিক ওষুধও এ সুবিধার আওতায় থাকবে। প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধও শূন্য শতাংশ শুল্কের আওতায় থাকবে।

এসব ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানের ক্ষেত্রেও একই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। তালিকায় থাকা দেশ ও অঞ্চলগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, আর্জেন্টিনা, কম্বোডিয়া, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুয়াতেমালা, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, জর্ডান, মালয়েশিয়া, উত্তর মেসিডোনিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, সুইজারল্যান্ড, লিশটেনস্টাইন, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ভিয়েতনাম। অর্থাৎ এই ২০টি দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানি করা যোগ্য পণ্য শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাবে।
 

বাণিজ্য বিভাগের নোটিশে বলা হয়েছে, এসব দেশ ও অঞ্চল থেকে আসা যোগ্য পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে পারে। এর কারণ হিসেবে এসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বা ভবিষ্যতে কার্যকর হতে যাওয়া বাণিজ্য ও নিরাপত্তা কাঠামোসংক্রান্ত চুক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই শুল্ক ছাড় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ২ এপ্রিলের ঘোষণার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘোষণার অন্যতম লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে পেটেন্ট করা ওষুধ ও জীবপ্রযুক্তিতে তৈরি ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো। ঘোষণায় নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ এবং এসব ওষুধ তৈরির উপাদান আমদানিতে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলা হয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণ আইনের ২৩২ ধারার আওতায় এ পরিবর্তন আাভুক্ত কিছু কম্পানির জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক ৩১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। আর অন্য যেসব কম্পানি এইনা হয়েছে।
 

তবে সব ধরনের ওষুধ এ শুল্কের আওতায় পড়বে না। বাণিজ্য বিভাগের নোটিশ অনুযায়ী, সাধারণ ওষুধ এবং এসব ওষুধ তৈরির উপাদানের ওপর ২৩২ ধারার এই ওষুধ শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সংযোজনীতে তালিকাভুক্ত কিছু কম্পানির জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক ৩১ জুলাই থেকেই কার্যকর হয়েছে। আর অন্য যেসব কম্পানি এই শুল্কের আওতায় পড়বে, তাদের ক্ষেত্রে তা ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।  বাণিজ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নোটিশে আগের ঘোষণার কিছু কারিগরি বিষয়ও সংশোধন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘সাধারণ ওষুধজাত পণ্য’-এর সংজ্ঞা ছাড়া ‘ওষুধজাত পণ্য’ বলতে কোন কোন পণ্য বোঝাবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মধ্যে থাকবে প্রস্তুত ওষুধ, ওষুধের সক্রিয় উপাদান এবং ওই সক্রিয় উপাদান তৈরির প্রধান পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সংজ্ঞায় পেটেন্টবিহীন প্রাণীর চিকিৎসায় ব্যবহৃত পণ্যগুলোকে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
 

এ ছাড়া ‘ওষুধজাত পণ্য’ বলতে কোন কোন পণ্য বোঝাবে, সেটিও স্পষ্ট করা হয়েছে। নতুন ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এর মধ্যে থাকবে প্রস্তুত ওষুধ, ওষুধের সক্রিয় উপাদান এবং ওই সক্রিয় উপাদান তৈরির প্রধান কাঁচামাল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক কাঠামোয় একদিকে নির্দিষ্ট কিছু পেটেন্ট করা ওষুধ ও উপাদানে ১০০ শতাংশ শুল্ক থাকছে, অন্যদিকে বিরল রোগসহ কয়েকটি বিশেষ চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ ও তাদের উপাদান নির্দিষ্ট দেশ ও অঞ্চল থেকে আমদানির ক্ষেত্রে শূন্য শতাংশ শুল্কের সুবিধা পাচ্ছে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১২