সিলেটের ওসমানীনগরে ভূমি সংক্রান্ত জেরে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, হুমকিসহ নানা অপপ্রচারের অভিযোগে সংবাদ সম্মেল করেছেন উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর গ্রামের মিয়াউর রহমানের পুত্র সাইদুর রহমান।


বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সাইদুর রহমান বলেন, পূর্ব বিরোধের জেরে ২৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার উমরপুর বাজারে তার উপর হামলা চালায় একই গ্রামের মোজাহিদ আলী, আব্দুল শহিদ ও তাদের সহযোগীরা। এতে তিনিসহ ৩জন আহত হন। এই ঘটনায় ২৭ সেপ্টেম্বর ওসমানীনগর থানায় তার ভাই আমিনুর রহমান বাদি হয়ে ১১ জনের নাম উল্যেখসহ ৬/৭ জনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর থেকে নিজে ও পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন।
 


লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, খুজগীপুর গ্রামের মোজাহিদ আলী ও আব্দুল শহিদ দীর্ঘ দিন থেকে নানা অপরাধ কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থেকে স্থানীয়দের নানা ভাবে হয়রানী করে আসছে। তাদের সাথে ১০/১২ জন সহযোগী নিয়ে বিভিন্ন সময় নিরীহ মানুষদের ভূমি দখলের ভয় ভিতি প্রদর্শন করে অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অপকর্ম পরিচালিত করে আসছেন। ১৯৭০ সালে সাইদুর রহমানের দাদা ইউনুছ আলী উমরপুর ইউনিয়নের খুজগীপুর মৌজার জেল নং০৯ খতিয়ান নং ৬৩৫, (বর্তমান বিএস) দাগ নং ২৯৯১/৯৩/৯৪/৩০০১/১৪/১৫/১৬/২৯৮০ দাগের ১৩০শতাংশ ভূমি তিনটি দলিল মূলে খুজগীপুর গ্রামের কুলচন্দ্র চৌধুরী শর্মার কাছ থেকে ক্রয় করেন। পরে তার বাবা ও চাচার নামে ভূমি রেজিস্ট্রি করেন। নামজারীর মাধ্যমে সম্মিলিত ভাবে ভূমি ভোগ দখল করলেও ভূমি ক্রয়ের ৬ বছর পর একই এলাকার চাঁন মিয়া ও আব্দুল জলিল জাল দলিল তৈরী করে ভূমিটি দাবি করেন। এই বিষয়ে সাইদুর রহমানের চাচা সোনাওর আলী বাদি হয়ে ১৯৭৬ সালে বালাগঞ্জ সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তী সময়ে চাঁন মিয়া ও আব্দুল জলিল মৃত্যু বরণ করলে তাদের উত্তরসুরী মোজাহিদ আলী ও আব্দুল শহিদসহ তার সহযোগীরা মামলা পরিচালনা করেন।
 

সাইদুর রহমানের চাচা সোনাওর আলীর দায়ের করা মামলাটি পর্যালোচনা করে ২০১০ সালের ২৬ আগস্ট সিলেট বিশেষ জেলা জজ আদালত রায় সোনাওর আলীর পক্ষে ঘোষণা করেন। চলতি বছর জুলাই মাসে ওই ভূমিতে একাধিক সাইনবোর্ড টানান সাইদুর রহমান। এমন খবর পেয়ে মোজাহিদ আলী ও আব্দুল শহিদসহ তাদের সহযোগীরা সাইনবোর্ডে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে জুর পূর্বক সাইনবোর্ড নিয়ে যায়। এসময় একাধিক বার সাইদুরসহ তার পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পুলিশ উভয় পক্ষকে ভূমির কাগজ নিয়ে থানায় আসতে বলেন। থানায় গিয়েও সাইদুর রহমান তাদের মালিকানা দেখান। এর পর থেকে মোজাহিদ আলী ও আব্দুল শহিদসহ তার সহযোগীরা সাইদুর রহমানের উপর নানা ভাবে হামলা চালানোর  পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাইদুর রহমানের ছবির সাথে অন্য একজন মহিলার ছবি যুক্ত করে জাল কাবিননামা প্রস্থুত ও সাজানো অভিযোগপত্র সংযুক্ত করে গ্রামের গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধির কাছে চিটির মাধ্যমে প্রেরণ করে মানহানীসহ নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে অভিযুক্তরা। এই ঘটনায়ও সাইদুর রহমান গত মাসে সিলেট প্যান্যাল কোর্ডে মামলা দায়ের করেন। এসব বিষয় নিয়ে প্রভাবশালী মোজাহিদ আলী ও আব্দুল শহিদ তাদের সহযোগীদের নিয়ে সাইদুরের উপর হামলা চালানোর চেষ্টায় উৎ পেতে থাকে। যার ধারাবাহিকতায়২৩ সেস্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উমরপুর বাজার মসজিদে এশার নামাজ পড়ে বের হওয়া মাত্র সাইদুরের উপর হামলা চালায়। তিনি দৌড়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রহমান রাইস মিলে গিয়ে প্রাণ রক্ষা করতে চাইলে সাইদুরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে ভাংচুরের অভিযোগ করেন তিনি। এসময় লুহার পাইপ ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাইদুর গুরুত্বর আহত হন। সাইদুরকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ভাতিজা হাছান মিয়া, চাচাত ভাই আক্তার হোসেন ও দোকানের তত্বাবধায়ক জালাল মিয়া আহত হন। এসময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে থাকা নগদ অর্থ মোবাইলফোনসহ মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ারও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয়রা গুরুত্বর আহত অবস্থায় সাইদুরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ৪ দিন চিকিৎসা নেন তিনি। বর্তমানে অভিযুক্তরা সাইদুর রজমানকে গুম ও হত্যার পরিকল্পনা করে আসছে বলেও অভিযোগ করে। প্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের দৃস্টি আকর্ষন করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও নিজের ও পরিবারের সদস্যদের সার্বিক নিরাপত্তা দাবি করেন তিনি।
 

এই বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও মোজাহিদ আলী অভিযোগের বিষয়ে কোন বক্তব্য দিতে রাজি হন নি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সাইদুর রহমানের ভাই আমিনুর রহমান, চাচাত ভাই আক্তার হোসেন, স্থানীয় আঙ্গুর মিয়া, হাসান মিয়া, জাকির আহমদ ও জালাল মিয়া।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/রনিক/এসডি-২০