সিলেটের দক্ষিণ সুরমার সিলামে রাসেল আহমদ শাহ (২৩) হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো মামলা হয়নি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। তবে মামলা না হলেও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের আটকের প্রক্রিয়াও চলছে।
গতকাল শুক্রবার (২ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর সিলাম ইউনিয়নের চকেরবাজার এলাকায় ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রাসেল আহমদ গুরুতর আহত হন। পরে তাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, ওই বিরোধে রাসেল সরাসরি জড়িত ছিলেন না। দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হলে তিনি তা থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি হামলার শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন।
রাসেল নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে ফের সংঘর্ষ, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে দক্ষিণ সুরমা ও মোগলাবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের কয়েকজনকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রাতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকতে দেখা যায়।
এ বিষয়ে মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদুল হক ভূইয়া সিলেটভিউ২৪ডটকমকে বলেন, ‘এখনও মামলা হয়নি। আমরা লিখিত অভিযোগের অপেক্ষায় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে আন্তরিকতার সঙ্গে ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের টিম কাজ করছে।’ তিনি বলেন, ‘নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।’
এদিকে রাসেল হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলামের হযরত শাহ তৈয়ব ছৈলানি (রহ.) মাজার, মসজিদ ও ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে শাহ ও শেখ গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে গত ২২ আগস্ট একই বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। ওয়াকফ এস্টেট পরিচালনা নিয়ে কমিটি গঠন ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াকে ঘিরেও এলাকায় উত্তেজনা ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০২






