২০২৪ সালের ৫ আগস্ট অভ‚্যত্থানের সময় সিলেটের বিভিন্ন থানা ও পুলিশ ফাঁড়ি থেকে লুন্ঠিত সকল অস্ত্র ও গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে অস্ত্রগুলোর হদিস না মিললেও এবার মিলতে শুরু করেছে সন্ধান। সিলেটে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-এসআরবি’র অভিযান জোরদারের পর নদীরপাড়, ঝোপঝাঁড় ও চা বাগানে এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে যাচ্ছে লুটকারীরা।
পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হওয়ায় এখনও জড়িতরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তবে এসআরবি কর্মকর্তারা বলছেন, লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি লুটের সাথে জড়িতদের সনাক্ত করে আটকে নানা তৎপরতা চলছে তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের গণঅভ‚্যত্থানের দিন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে ১০১টি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ লুট হয়। এর মধ্যে উদ্ধার হয়েছে ৮৫টি। লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন এসএমপি’র উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
এ ছাড়া সিলেট জেলা পুলিশের বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া ৩১টি অস্ত্রের মধ্যে এখন পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ২১টি। লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা।
এদিকে, র্যাব বিলুপ্ত করে এসআরবি গঠনের পর সিলেটে জোরদার হয়েছে নতুন সংস্থাটির কার্যক্রম। শুরু থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান শক্তিশালী করা হয়। বাড়ানো হয় গোয়েন্দা তৎপরতা। লুট হওয়া অস্ত্রের সন্ধান দিতে উদ্ধুদ্ধ করা হয়জনসাধারণকে। অস্ত্রের সন্ধান দিলে পুরস্কারের ঘোষনাও দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়।
সবমিলিয়ে সিলেটের অস্ত্র লুটকারীদের মধ্যে দেখা দেয় অস্থিরতা। অভিযান থেকে বাঁচতে তারা নির্জন এলাকায় ফেলে যাচ্ছে লুন্ঠিত আগ্নেয়াস্ত্র, ম্যাগাজিন, গুলি, রাবার বুলেট ও গ্রেণেড। চারদিনের মধ্যে তিনটি অভিযান চালিয়ে লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদেও একাংশ উদ্ধার করেছে এসআরবি।
এসআরবি জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেট এয়ারপোর্ট থানাধীন লালিছড়া চা বাগানের একটি ঝিঁরি থেকে ৭.৬২ মি.মি. ক্যালিবারের টাইপ-১৯৫৬ মডেলের চায়নার তৈরি একটি রাইফেল উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে অস্ত্রটি কোন থানা থেকে লুট হয়েছিল।
এর আগের দিন রবিবার জৈন্তাপুর উপজেলার বাউরভাগ মল্লিফৌদ গ্রাম সংলগ্ন সাফরি নদীরপাড় থেকে পুলিশের লুন্ঠিত রাইফেলের ২টি ম্যাগাজিন, ২টি হ্যান্ড গ্রেণেড ও থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের ১১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে এসআরবি।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর শনিবার জৈন্তাপুর থানার হরিপুর বাজার সংলগ্ন হাউদপাড়া এলাকার একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি দোনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। সাথে পাওয়া যায় থানা থেকে লুট হওয়া পুলিশের ৪ রাউন্ড রাবার কার্তুজ ও ২ রাউন্ড রাইফেলের গুলি। এসআরবি’র ধারণা ওই এলাকায় সক্রিয় থাকা সংঘবদ্ধ চোরাকারি সিন্ডিকেট এই অস্ত্র ও গুলি নিজেদের হেফাজতে রেখেছিল। অভিযান জোরদারের বিষয়টি টের পেয়ে তারা জঙ্গলের ভেতর ফেলে গিয়েছে।
এসআরবি-৯ এর মিডিয়া অফিসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এসআরবি গঠনের পর থেকে অস্ত্র উদ্ধারে সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশের লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এতে লুন্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ যাদের হেফাজতে ছিল তারা নির্জন এলাকায় ফেলে যাচ্ছে। পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব অস্ত্র উদ্ধার হলেও জড়িতদের সনাক্ত ও গ্রেফতারে এসআরবি গোয়েন্দা তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ






