সিলেট সরকারি কলেজ ইসলামী ছাত্রশিবির এর উদ্যোগে একাদশ শ্রেণীর (২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের) নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার গাইডলাইন অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ অডিটোরিয়ামে ৮০০ নবীন শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ অনুষ্ঠান হয়।

কলেজ সেক্রেটারি ইয়াজুর হোসেন খান এর সঞ্চালনায় অনুস্মষ্টানে সভাপতিত্ব কছাত্রশিবির কলেজ সভাপতি ফাহমিদ আল মাহদি।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা।


বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগর সভাপতি শহীদুল ইসলাম সাজু, সাবেক কেন্দ্রীয় স্কুল কার্যক্রম সম্পাদক সিদ্দিক আহমদ,  কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও শাবিপ্রবি সভাপতি মাসুদ রানা তুহিন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিবগাতুল্লাহ বলেন, সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, সফলতার পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদগুলোর একটি হলো সময়। সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনাই একজন শিক্ষার্থীকে অন্যদের থেকে এগিয়ে নিতে পারে। প্রতিদিনের সময় কীভাবে ব্যয় হচ্ছে, কোন কাজ অগ্রাধিকার পাচ্ছে এবং নিজের লক্ষ্যের দিকে কতটুকু এগোনো যাচ্ছে—তার ওপরই অনেকাংশে সফলতা ও ব্যর্থতার ব্যবধান নির্ভর করে। সময়কে যে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, সে নিজের ভবিষ্যৎকেও অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

তিনি বলেন, বর্তমান পৃথিবী শুধু জ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতিযোগিতার পৃথিবী নয়; এটি চিন্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েরও পৃথিবী। নানা মত, দর্শন, সংস্কৃতি ও চিন্তাধারা প্রতিনিয়ত তরুণদের চিন্তা ও জীবনবোধকে প্রভাবিত করছে। তাই শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করাই যথেষ্ট নয়; সত্য-মিথ্যা, ন্যায়-অন্যায় এবং কল্যাণ-অকল্যাণের পার্থক্য বোঝার মতো চিন্তাশক্তিও অর্জন করতে হবে। জ্ঞানকে হতে হবে চরিত্র গঠনের হাতিয়ার।

জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে পানি, সীমান্ত ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে সিলেটের মানুষের কাছে নদী ও পানির প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি প্রবাহ, উজানে পানি প্রত্যাহার এবং বাঁধ বা জলকাঠামোর প্রভাব নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের জন্য ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, ধর্মের চর্চা মানুষের মধ্যে জবাবদিহিতার অনুভূতি তৈরি করে। মানুষ যখন বিশ্বাস করে যে তার প্রতিটি কাজের হিসাব তাকে দিতে হবে, তখন তার মধ্যে সংযম, সততা ও দায়িত্ববোধ তৈরি হয়। কেবল আইন বা সামাজিক শাস্তির ভয় নয়, অন্তরের নৈতিক শক্তিই একজন মানুষকে সত্যিকার অর্থে সৎ করে তুলতে পারে।

তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থীর লক্ষ্য শুধু দুনিয়াবি সফলতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। শিক্ষা, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত অর্জনের পাশাপাশি আত্মিক উন্নয়নও জরুরি। জ্ঞানার্জনের পাশাপাশি চরিত্র, নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

শহীদ আবরার ফাহাদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার শাহাদাত তরুণ সমাজের সামনে মতপ্রকাশ, ন্যায়বোধ ও শিক্ষাঙ্গনের পরিবেশ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকবান ও ন্যায়নিষ্ঠ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গে সিবগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে দেশি বা বিদেশি যে-ই থাকুক না কেন, পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, আজকের নবীন শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের শিক্ষক, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক, উদ্যোক্তা, প্রশাসক ও নেতৃত্বের বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবে। তাদের হাতে শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎ নয়, একটি সমাজের ভবিষ্যৎও অনেকাংশে নির্ভর করবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরুতেই লক্ষ্য নির্ধারণ, সময়ের সদ্ব্যবহার, জ্ঞানচর্চা, নৈতিকতা ও আত্মশুদ্ধির সমন্বিত পথ বেছে নেওয়াই হতে পারে সত্যিকার সফলতার প্রথম পদক্ষেপ।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৫