মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির আইন ও বিচার বিভাগের এলএল.বি. (অনার্স) চতুর্থ বর্ষের (৫৩তম ব্যাচ) উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে আইনি ধারণাকে আরও প্রাঞ্জল ও দৃশ্যমান করার লক্ষ্যে এক বিশেষ চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ আশরাফুর রহমানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় তাঁর ‘ফৌজদারী কার্যবিধি (পার্ট-টু)’ বিষয়ের সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত ধ্রুপদী বাংলা চলচ্চিত্র ‘সবার উপরে’ প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতে উপস্থিত ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক গাজী সাইফুল হাসান।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আয়োজিত প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টাব্যাপী এই পুরো অনুষ্ঠানটি ছিল এককথায় চমৎকার, মনোমুগ্ধকর ও নিখুঁত। এলএল.বি. অনার্স ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের এই সুনিপুণ ব্যবস্থাপনা সর্বস্তরে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয় এবং পুরো আয়োজনটি সবার হৃদয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী ও স্মরণীয় ছাপ রেখে যায়।
১৯৫৫ সালে অগ্রদূত পরিচালিত উত্তম কুমার ও সুচিত্রা সেন অভিনীত এই কালজয়ী চলচ্চিত্রটি মূলত স্যার এ. জে. ক্রোনিন-এর বিখ্যাত উপন্যাস Beyond This Place অবলম্বনে নির্মিত। ছবিতে বিচার ব্যবস্থার নানা জটিলতা, আইনের ফাঁকফোকর এবং প্রভাবশালী সমাজের ষড়যন্ত্রের করুণ বাস্তব রূপ তুলে ধরা হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির মূল গল্পে দেখা যায়, ১২ বছর আগে ঘটে যাওয়া একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রভাবশালী মহল ও ভূয়া সাক্ষীদের মিথ্যার আশ্রয়ে এবং আইনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে সম্পূর্ণ নিরপরাধ এক ব্যক্তিকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। নিরপরাধ সেই বাবার একমাত্র সন্তান পরবর্তীতে বড় হয়ে আইনজীবী হয় এবং রাষ্ট্রযন্ত্র ও আইনের প্রতি আস্থা রেখে সত্য উদঘাটনের লড়াইয়ে নামে। রাষ্ট্রীয় সহযোগিতায় পুনর্বিচারের (Retrial) মাধ্যমে দীর্ঘ সংগ্রামের পর আইনি লড়াইয়ে জয়ী হয়ে সে তার নির্দোষ পিতাকে আদালতের মাধ্যমে বেকসুর খালাস করে নিয়ে আসে।
সিনেমার প্রদর্শন শেষে আয়োজিত আলোচনায় আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক শেখ আশরাফুর রহমান বলেন, “আইনের শিক্ষার্থীদের কেবল তত্ত্বীয় বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বিচার ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, প্রমাণের গুরুত্ব, সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া এবং আইনি ত্রুটি কীভাবে একজন নিরাপরাধ মানুষের জীবন ধ্বংস করে দিতে পারে তা অনুধাবন করা জরুরি। 'সবার উপরে' চলচ্চিত্রটি শিক্ষার্থীদের ফৌজদারী কার্যবিধির জটিল ধারা ও পুনর্বিচারের গুরুত্ব বুঝতে গভীরভাবে সাহায্য করবে।”
প্রদর্শনে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং এলএল.বি. (অনার্স) ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলে এ ধরনের ব্যতিক্রমী, বাস্তবমুখী ও শিক্ষণীয় আয়োজনের প্রশংসা করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/আরআই-কে





