প্রতিদিনই হারিয়ে যাচ্ছে সোনা সোনা মুখগুলো। ঠাঁই মিলছে না সিলেটের হাসপাতালগুলোতেও। জীবন শুরু হতে না হতেই মা-বাবার বুক খালি করে বিদায় নিচ্ছে চিরদিনের মতো। হাম ও সন্দেহজনক হামের নিষ্ঠুর থাবায় ছিন্নভিন্ন হচ্ছে স্বজনদের হৃদয়। চলতি বছর ১৮৫টি লাশের বোঝায় ভারী হয়েছে সিলেটবাসীর বুক। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে শ’ শ’ শিশু। সেখানেও মিলছে না ঠাঁই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘন্টায়ও সিলেটের শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ গেছে যথাক্রমে ৯ মাস ও ৬ মাস বয়সী দুই শিশুর।
সিলেটে হাম রোগীদের জন্য বিশেষায়ীত হাসপাতাল দুটি হচ্ছে শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতাল ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে আসন আছে ১০০টি। আর ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আছে ৮৫টি।
অথচ রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ, কখনোবা তিনগুণেরও বেশি। শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে মঙ্গলবার রোগী ভর্তি র্ছিল ২১৪ জন। আর বুধবার তা কিছুটা কমে দাঁড়ায় ১৯০ জনে। বৃহস্পতিবার এই হাসপাতালটিতে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৮৮জন শিশু।
আবার ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিটে ৮৫ আসনের বিপরীতে মঙ্গলবার রোগী ছিল দু’শো জন। বৃহস্পতিবার হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে আরও ৪৬ জন।
এই অবস্থায় তাদের চিকিৎসা চলছে কিভাবে? এমন প্রশ্নের জবাবে শহিদ শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মির্জা রিয়াদ হাসান সিলেটভিউকে বলেন, দুটো বেড একত্র করে ৪ জন রোগী রেখেও কুলানো যাচ্ছেনা। অনেক রোগীকে ফ্লোরে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এই হাসপাতালে হাম রোগীদের জন্য আসন বৃদ্ধির বিষয়ে তিনি জানান, তারা মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা জানতে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. আবু জাফর মো. খালেদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাা করলেও তা সম্ভব হয়নি।
তবে সদ সাবেক উপপরিচালক ও বর্তমানে সিলেট বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, ৮৫ সিটের বিপরীতে দ্বিগুণ আড়াইগুণ রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। শুধু হামই নয়, সব ওয়ার্ডেরই একই অবস্থা। তবু চিকিৎসা চলছে।
তবে তিনি আরও জানান, ভর্তির ৪দিন পর আর হাম রোগ সংক্রমনের কোনো আশঙ্কা না থাকায় অন্যান্য ওয়ার্ডে রোগী রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে-১২





