কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ, ফ্যাসিবাদের নির্মূল এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখার উদ্যোগে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার বাদ জুম্মা বন্দরবাজার জামে মসজিদ সামান মিছিলটি বের হয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে এক সমাবেশে মিলিত হয়।


মহানগর জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা নিজামুদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং মহানগর জমিয়তের সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরীর পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খলিলুর রহমান, মহানগরের সহ-সভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা মুখতার আহমদ, দক্ষিণ জেলা সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুসাব্বির যামডরী, মহানগর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুল ও হাফিজ আহমদ সগির আমকোনী এবং জালালাবাদ ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ, সহ-সম্পাদক মাওলানা মুফতি মতিউর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ সালিম কাসেমী, উত্তর জেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েস,শ্রমিক জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ মাহমুদুল হাসান,  মহানগর জমিয়তের অন্যতম নেতা মাওলানা শামীম আহমদ,  মাওলানা হাসান আহমদ, মাওলানা লুৎফুর রহমান, এম বেলাল আহমদ চৌধুরী, মাওলানা রফিক আহমেদ মহল্লী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা এমাদ উদ্দিন সালিম ও মাওলানা আবুল খায়ের,মাওলানা হাবিবুল্লাহ জালালি সাবেক ছাত্রনেতা সেলিম চৌধুরী, যুবনেতাদের মধ্যে মাওলানা আসাদুদ্দিন, হাফিজ আব্দুল করিম দিলদার, আবু সুফিয়ান, আব্দুল হাসিব খান, মনসুর আহমদ, আফতাব উদ্দিন খান, সিরাজুল ইসলাম, মাওলানা খলিল উল্লাহ মাহবুব, এম ফয়সাল আহমদ, দিলদার হোসাইন, আব্দুল কাদির, মাওলানা জিয়াউর রহমান, ও মাওলানা হাসান বিন ফাহিম, ছাত্রনেতা জামিল আহমদ, আবু হানিফা সাদি, মাহাদি চৌধুরী, কোবাইব বিন জামিল, রায়হানউদ্দিন, মীর আইনুল হক ও আনোয়ার চৌধুরী।

সমাবেশে নেতৃবৃন্দ বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পরে একটি নির্বাচিত সংসদ যেখানে বিদ্যমান, সেখানে সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদে সোচ্চার হওয়া এবং জনগণের পক্ষে কথা বলার মতো দৃশ্যমান বা কার্যকর কোনো ভূমিকা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি।

সরকারকে সাবধান করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, জনগণের পালস (ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষা) বুঝে দ্রব্যমূল্য এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করুন। অন্যথায় জনগণের ক্ষোভ থেকে রেহাই পাবেন না।

তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে না পারলে উন্নয়নের সবকিছুই ভেস্তে যাবে। কাজেই দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করুন এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।

বক্তারা ফ্যাসিবাদের তীব্র সমালোচনা করে আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে যে ফ্যাসিবাদের রাজত্ব কায়েম ছিল, তার শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিচার করতে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিভিন্ন জায়গায় মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তাদের চিরতরে নির্মূল করতে হবে। একই সাথে পাড়া-মহল্লায় এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যেকোনো ধরনের সন্ত্রাস, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধ করতে প্রশাসনকে কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-০৮