সিলেটে নিরবে বাড়ছে ডেঙ্গু সংক্রমণ। খুঁজতে গেলেই মিলছে এডিস মশার লার্ভা। একবার ধ্বংসের পর পুণরায় একই এলাকায় লার্ভার সন্ধান মিলছে। সিলেট নগরজুড়ে একহাজারের বেশি স্থানে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এ যেন ঘরের কাছে ‘বিপদের কারখানা’। সিটি করপোরেশনের সবকটি ওয়ার্ডে লার্ভার সন্ধান পাওয়াকে শঙ্কার কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। 


মহানগরের বাইরে জেলার সবকটি থানায়ও পাওয়া গেছে এডিস মশার প্রজননকেন্দ্র। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সবকটি ছোট বড় হাসপাতালে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম। 



 
বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের তথ্য মতে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘন্টায় সিলেটে নতুন আরও ৪৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সবমিলিয়ে সিলেট বিভাগে আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন ৫১৮ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ২১৯ জন আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছেন হবিগঞ্জে। 


এ ছাড়া সিলেটে ১০৯ জন, সুনামগঞ্জে ১১৮ জন, মৌলভীবাজারে ৫৬ জন ও অন্যান্য জেলা থেকে আক্রান্ত হয়ে এসেছেন ১৬ জন। শুক্রবার সিলেটের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৮ জন। এখন পর্যন্ত সিলেটে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৩ জন। 


সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) সূত্র জানায়, এডিস মশার আবাসস্থল নির্মূলে ১ জুলাই থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত প্রথম ধাপে অভিযান চালানো হয়। দুই মাসের অভিযানে নগরের প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার বাসা-বাড়ি ও সম্ভাব্য স্থানে অনুসন্ধান করা হয়। এর মধ্যে ৯০০টির বেশি স্থানে পাওয়া গেছে এডিসের লার্ভার সন্ধান। ১৫ দিন বিরতি দিয়ে গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় দ্বিতীয় ধাপে লার্ভা অনুসন্ধান ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম। এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ হাজার স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে আড়াইশ’র বেশি স্থানে এডিসের লার্ভা পাওয়া গেছে। 


সিসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, এবার মহানগরীর প্রতিটি ওয়ার্ডে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় ধাপেও মিলছে এডিসের প্রজননস্থল। পুরো নগরীতে লার্ভা পাওয়ার বিষয়টি শঙ্কার। এছাড়া আগে এডিস মশার প্রজনন নগরকেন্দ্রিক বেশি ছিল। এবার তা প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত ছড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধ তথা এডিস মশার আবাসস্থল নির্মূলে সিটি করপোরেশনের ১০টি টিম একযোগে কাজ করছে। চার জনের করে একেক টিমে কাজ করছেন। ঔষধ ছিটানোর পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার কাজও চলছে।

সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত জানান, এবছর সিলেটের সবকটি উপজেলায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। জেলা থেকে উপজেলা সবখানে অনুসন্ধান ও প্রতিরোধ কার্যক্রম চলমান আছে। 

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম জানান, সিটি করপোরেশনকে সাথে নিয়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পরিত্যক্ত টায়ার, স্যানেটারি সামগ্রী, বাসা-বাড়ির ফুলের টব, রাস্তাঘাট ও আঙিনায় পড়ে থাকা ডাব ও নারিকেলের খোসাসহ কোন ধরণের পাত্রে যাতে পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে জনসাধারণকে সচেতন করা হচ্ছে। সচেতনতার অংশ হিসেবে প্রতি শনিবার জেলার সকল সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য বিভাগের সবকটি বড় হাসপাতালে ১০টি ছোটগুলোতে ন্যূনতম ২টি করে আসন সংরক্ষণ করা আছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে আসন বাড়বে। ডেঙ্গুর চিকিৎসার জন্য সকল হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঔষধ ও স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ‘কীট’ও মজুদ রয়েছে। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/শাদিআচৌ