ছবি- এআই
হবিগঞ্জের মাধবপুরে ঋণ করে আগাম জাতের টমেটো চাষ করেছিলেন প্রান্তিক কৃষক গিরিধন সরকার। স্বপ্ন ছিল, কয়েক সপ্তাহ পরই ক্ষেতভরা টমেটো বিক্রি করে ফিরবে সংসারে সচ্ছলতা। গাছে ফুলও আসতে শুরু করেছিল।
প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন শ্রমিক কাজ করতেন তাঁর জমিতে। কিন্তু কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক প্রয়োগে মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সব স্বপ্ন। নষ্ট হয়ে যায় ২৫০ শতক জমির টমেটো ক্ষেত। প্রায় ১৬ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়ে এখন দিশেহারা কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত টমেটো ক্ষেত দেখে অসুস্থ হয়ে প্রান্তিক কৃষক গিরিধন এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
ঘটনাটি হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের দীঘিরপাড় গ্রামের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক গিরিধন সরকারের পরিবারের দাবি, ভুল ওষুধ দেওয়ার কারণে তাঁদের এই ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও আইনগত ব্যবস্থা চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তাঁর ভাই সুলতানপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রায়ধন সরকার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, টমেটো গাছে পোকামাকড়ের আক্রমণ দেখা দিলে গত ৭ অক্টোবর গিরিধন সরকার মাধবপুর বাজারের বিসমিল্লাহ বীজ ভান্ডারে যান। অটোকেমিক্যাল কোম্পানির প্রতিনিধি মো. মনিরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে কীটনাশক ক্রয় করেন । পরে তাঁদের দেওয়া ওষুধ জমিতে স্প্রে করেন তিনি। এরপরই সাদা হয়ে যায় টমেটো গাছগুলো। নষ্ট হয়ে যায় পুরো ক্ষেত।অনেক গাছের গুড়ায় পচন ধরেছে। আগাম টমেটো চাষ করে ভালো দামে ফসল বিক্রির স্বপ্ন দেখেছিলেন গিরিধন। এ জন্য এনজিও ও বিভিন্ন ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে জমিতে বিনিয়োগ করেছিলেন। ফসল নষ্ট হওয়ায় এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি। মানসিক চাপের মধ্যে অসুস্থ হয়ে বর্তমানে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মেহেদী হাসান বলেন, ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে কিভাবে প্রনোদনায় সহযোগিতা করা যায় দেখা হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সজিব সরকার জানান, বৃহস্পতিবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জানা গেছে, কৃষক কীটনাশকের পরিবর্তে আগাছানাশক জমিতে প্রয়োগ করায় টমেটো গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকও ওষুধের বোতল যাচাই না করেই প্রয়োগের কথা স্বীকার করেছেন। বিষয়টি আরও যাচাই করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিক্রেতাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জমিতে প্রয়োগের আগে ওষুধের লেবেল ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা বলেন, কৃষকদের যে কোন বিষয়ে পরামর্শের জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত। প্রয়োজনে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে। ফলন ধরার আগ মুহূর্তে টমেটো ক্ষেতের এ বিপর্যয়ে কৃষক পরিবারটি কিভাবে এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে আনা ঋণ, ধার দেনা পরিশোধ করবেন এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-২০





