দুই সপ্তাহের টানা আন্দোলন, শাটডাউন আর উত্তেজনার পর অবশেষে খুলেছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের তালা। রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলার মধ্য দিয়ে ফের সচল হয়েছে কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।
 

সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হয়। তালা খোলার পর শিক্ষার্থীরা হাততালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। পরে কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল ও নাসিম হোসাইনকে ফুল দিয়ে বরণ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
 


তালা খোলার পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাসিম হোসাইন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো নিয়ে একটি সমাধানের পথ তৈরি হয়েছে। এখন আর আন্দোলন নয়, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সময়।

তিনি বলেন, আমরা চাই, এই কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তোমরা পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।’
 

নাসিম হোসাইন বলেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক। কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে নিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।‘

বাণিজ্যমন্ত্রী যা বলেন, তা পালন করেন। আমরা তার ওপর আস্থা রাখতে চাই।’
 

কলেজের সংকট সমাধানে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও কাজ করছেন বলে জানান নাসিম হোসাইন।

কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাসিম হোসাইন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের এ দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নতুন উচ্চতায় যাবে।
 

এ সময় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে নাসিম হোসাইন বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তাঁর হাত ধরেই এ কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তখনই কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল।

নাসিম হোসাইন বলেন,‘আমরা আশা করি, শিগগিরই এটাকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। হয়তো তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের যারা আছো, তাদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ পেতে পারো।’

যেভাবে থামল আন্দোলন: এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের মতবিনিময় হয়।
 

সভায় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং কলেজটিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগের আশ্বাস দেওয়া হয়।

মন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তোষ প্রকাশ করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে রোববার থেকে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত জানান তারা।
 

দুই সপ্তাহের অচলাবস্থার অবসান:
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষক অবরুদ্ধ করে কর্মসূচিও পালন করেন আন্দোলনকারীরা।

শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে ছিল—কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতামুক্ত করে শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।

এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক করা হয়। তবে তখন আন্দোলন প্রত্যাহার করেননি শিক্ষার্থীরা।
 

অবশেষে বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর আন্দোলন প্রত্যাহার করে শ্রেণিকক্ষে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন তারা। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটল সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে।

২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে প্রায়  হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মআস-০১