অসুস্থ হওয়ার আগেই মানুষের বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। এর মাধ্যমে আগেভাগে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে।
তবে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারই স্বাস্থ্যসেবায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। এ জন্য চিকিৎসাব্যবস্থার কাঠামো ও অর্থায়ন পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইউরোপে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। এতে আগে থেকেই চাপে থাকা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে এআই নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
দায়িত্বশীল এআই নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা হেলথএআইয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিকার্ডো ব্যাপটিস্তা লেইতে বলেন, অদক্ষ ব্যবস্থায় এআই যুক্ত করলে সেটি শুধু অদক্ষতাকে আরও কার্যকর করে তুলবে। তার মতে, প্রযুক্তি একা স্বাস্থ্যব্যবস্থার সংকট সমাধান করতে পারবে না।
স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্যের পাশাপাশি সামাজিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এআই শনাক্ত করতে পারে কারা ভবিষ্যতে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এতে রোগের অবনতি হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে। লেইতের মতে, হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর রোগীকে বাঁচানোর পাশাপাশি আগেভাগে ঝুঁকি শনাক্ত করে রোগটি প্রতিরোধের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালগুলো রোগীর চিকিৎসার জন্য অর্থ পায়, সুস্থ রাখার জন্য নয়। তাই রোগ প্রতিরোধ, আগাম পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত হস্তক্ষেপকে উৎসাহিত করে এমন অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্যসেবায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে নিরাপত্তা ও জনসাধারণের আস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ইউরোপীয় অঞ্চলের প্রধান হান্স হেনরি পি. ক্লুগে সতর্ক করেছেন, ইউরোপের ৫৩টি দেশের দুই-তৃতীয়াংশে এআইভিত্তিক রোগ নির্ণয় প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও মাত্র ১২টির মধ্যে একটি দেশে এআই নিয়ন্ত্রণের কৌশল রয়েছে।
এ পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, যথাযথ নজরদারির অভাবে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা কমে যেতে পারে।
এদিকে, এআই ব্যবহারে ক্ষতিকর ঘটনা শনাক্ত ও ঝুঁকিসংক্রান্ত তথ্য বিনিময়ে ১০টি দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে হেলথএআই। কোনো প্রযুক্তিতে সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত তা শনাক্ত করে ক্ষতি প্রতিরোধ করাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৩





