শখের বসে শুরু করেছিলেন অর্কিড চাষ। ছোট্ট পরিসরে চারটি জাতের অর্কিডের চারা দিয়ে নিজের বারান্দায় যে বাগানের যাত্রা শুরু হয়েছিল, দুই বছরের ব্যবধানে সেই বাগানই হয়ে উঠেছে নানা রঙের অর্কিডের এক মনোমুগ্ধকর সংগ্রহ। বর্তমানে তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ছয় প্রজাতির প্রায় ৪০ রঙের অর্কিড। প্রতিটি অর্কিডের রয়েছে আলাদা বৈশিষ্ট্য ও নিজস্ব পরিচিতি। ফুলপ্রেমী শামীম চৌধুরীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ এখন তাঁর অবসর সময় কাটানোর অন্যতম অনুষঙ্গ।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের নুরুল্লাহপুর গ্রামের শামীম চৌধুরী প্রায় দুই বছর আগে শখের বশে নিজের বাড়ির বারান্দায় অর্কিডের চারা দিয়ে বাগান শুরু করেন। শুরুতে মাত্র চারটি জাতের অর্কিড নিয়ে তাঁর এই যাত্রা শুরু হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে গাছের প্রতি ভালোবাসা, পরিচর্যা ও নতুন জাত সংগ্রহের আগ্রহ বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে তাঁর সংগ্রহে যুক্ত হয় আরও নানা ধরনের অর্কিড। বর্তমানে ছয় প্রজাতির প্রায় ৪০ রঙের অর্কিড রয়েছে তাঁর বাগানে।
শামীম চৌধুরীর সংগ্রহে থাকা অর্কিডের মধ্যে রয়েছে ডেনড্রোবিয়াম, রিঙ্কোস্টাইলিস, টলুমনিয়া, ফ্যালেনপসিস, অনসিডিয়াম ও ক্যাটলিয়া প্রজাতি। প্রতিটি প্রজাতির গঠন, ফুলের রং, পাপড়ির আকৃতি ও সৌন্দর্যে রয়েছে ভিন্নতা। এসব বৈচিত্র্যের কারণেই অর্কিডপ্রেমীদের কাছে ফুলটি বিশেষ আকর্ষণীয়। তাঁর সংগ্রহে থাকা প্রতিটি অর্কিডের আলাদা নাম ও পরিচিতি রয়েছে বলে জানান তিনি।
সাধারণ ফুলের গাছের তুলনায় অর্কিডের পরিচর্যায় কিছুটা বাড়তি মনোযোগ প্রয়োজন। গাছের উপযোগী পরিবেশ, আলো-বাতাস, পানি এবং পরিচর্যার বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। তাই শখের এই বাগান গড়ে তোলার পাশাপাশি গাছগুলোর যত্ন নেওয়ার প্রতিও গুরুত্ব দিচ্ছেন শামীম। সময় পেলেই তিনি গাছগুলোর পরিচর্যা করেন এবং নতুন ফুল ফোটার অপেক্ষায় থাকেন।
বারান্দার সীমিত জায়গাকে কাজে লাগিয়ে অর্কিডের এমন সংগ্রহ গড়ে তোলা তাঁর শখের প্রতি ভালোবাসারই পরিচয় বহন করে। বাড়ির বারান্দায় সাজানো গাছগুলো শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, বরং অবসর সময়কে আনন্দময় করে তোলার সুযোগও সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন রঙ ও বৈশিষ্ট্যের অর্কিড একসঙ্গে বেড়ে ওঠায় তাঁর ছোট্ট বাগানটি হয়ে উঠেছে বৈচিত্র্যময়।
অর্কিড মূলত সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যের জন্য পরিচিত একটি আকর্ষণীয় ফুল। এর বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের রং, পাপড়ির গঠন এবং দীর্ঘস্থায়ী সৌন্দর্য ফুলপ্রেমীদের মুগ্ধ করে। তবে অর্কিডের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলে প্রয়োজন ধৈর্য, নিয়মিত পরিচর্যা এবং গাছের ধরন অনুযায়ী যত্ন নেওয়া। শামীম চৌধুরীর দুই বছরের এই সংগ্রহ সেই আগ্রহ ও ধৈর্যের একটি উদাহরণ।
গ্রামবাংলার বাড়ির আঙিনা কিংবা বারান্দায় সাধারণত বিভিন্ন ধরনের ফুলের গাছ দেখা গেলেও অর্কিডের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে ব্যতিক্রমী। অল্প জায়গায় পরিকল্পিতভাবে গাছ সাজিয়ে রাখার মাধ্যমে বাড়ির পরিবেশকে আরও সুন্দর করে তোলা সম্ভব। শামীম চৌধুরীর এই উদ্যোগ ফুলপ্রেমীদের পাশাপাশি নতুন করে গাছ লাগাতে আগ্রহীদেরও অনুপ্রাণিত করতে পারে।
মাত্র চারটি জাতের অর্কিড দিয়ে শুরু হওয়া শখের বাগানটি দুই বছরে ছয় প্রজাতির প্রায় ৪০ রঙের সংগ্রহে পরিণত হয়েছে। শখ থেকে শুরু হওয়া এই পথচলায় অর্কিডের প্রতি তাঁর আগ্রহই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। নিজের বারান্দায় গড়ে তোলা এই ছোট্ট অর্কিড বাগানের মাধ্যমে শামীম চৌধুরী দেখিয়েছেন, ইচ্ছা ও যত্ন থাকলে সীমিত জায়গাতেও গড়ে তোলা যায় প্রকৃতির সৌন্দর্যে ভরা একটি ব্যতিক্রমী ফুলের সংগ্রহ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/শামীম/এসডি-০৮




