বর্ণাঢ্য আয়োজনে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।

সোমবার (২ নভেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হয়।


কর্মসূচির মধ্যে ছিল জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, বেলুন ও সাদা পায়রা উড্ডয়ন, কেক কাটা, বৃক্ষরোপণ এবং বর্ণাঢ্য র‌্যালি। পরে ‘সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়: প্রতিষ্ঠা, অর্জন ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

চলিত বছরের জাতীয় দিবস উদযাপন কমিটি’র সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহবুব ইকবালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. রুহুল কবির রিজভী।

অনুষ্ঠানের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সফি উল্যাহ মজুমদার।

বিশেষ অতিথি ছিলেন- বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক।

এ ছাড়া সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রুহুল কবির রিজভী বলেন, সমন্বিত কৃষিনীতি থাকলে দেশের সমৃদ্ধি আরও দ্রুত ও টেকসই হবে। কৃষি দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের মূল ভিত্তি। তাই কৃষির উন্নয়নে উৎপাদন, বাজার, প্রযুক্তি ও কৃষকের জীবনমানকে একসঙ্গে গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের পতিত জমি চিহ্নিত করে চাষের আওতায় আনতে হবে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়বে এবং খাদ্য আমদানির ওপর নির্ভরতা কমবে।

কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর ভূমি ব্যবহার নীতিমালা বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

রিজভী আরও বলেন, কৃষকদের সরাসরি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। হতদরিদ্র কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর উদ্যোগ ইতিবাচক। তবে প্রকৃত উপকারভোগীরা সুবিধা পাচ্ছেন কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা জরুরি।

শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে শিক্ষা খাতে অর্জিত অগ্রগতি অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।

সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠায় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম. সাইফুর রহমানের অবদানের কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, তাঁর দূরদর্শী চিন্তা ও শিক্ষার প্রসারে আগ্রহ সিলেট অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা ও কৃষিশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ওপর। কৃষির আধুনিকায়ন ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়কে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

গবেষণালব্ধ জ্ঞান কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

ফরহাদ হালিম ডোনার আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দক্ষ, সৎ, মেধাবী ও দেশপ্রেমিক কৃষিবিদ তৈরি হবে। তাঁরা দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সংসদ সদস্য মোছাঃ তাহসিনা রুশদীর লুনা ও মোহাম্মদ আব্দুল মালিক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক মো. বদরুজ্জামান সেলিম, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইমদাদ হোসেন চৌধুরী।

দিনব্যাপী আয়োজনের শেষ পর্বে সন্ধ্যা ৬টায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি শেষ হয়।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/মআস-০১