সারাদেশে চলছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। প্রতিনিয়তই আক্রান্ত হচ্ছে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যে দেশে চারশোর বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন। দেশের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছেন আরও কয়েক সহস্রাধিক মানুষ।
 

সারাদেশে ডেঙ্গুর এমন প্রাদুর্ভাব চললেও হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ পৌরসভায় মশা নিধনে নেই তেমন কোনো কার্যকর কার্যক্রম। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সারাদেশের ন্যায় হাওরাঞ্চল গুলোতে নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মশা নিধনের কার্যক্রমের সরকারি নির্দেশনা থাকলেও এ ব্যপারে অনেকটাই উদাসীন পৌর কতৃপক্ষ।
 


তবে পৌর কতৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত মশা নিধন র্কাযক্রম পরিচালনা করছেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, হাওড় বেষ্টিত অঞ্চলটিতে বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার পর পৌরসভা জুড়ে মশার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও মশা নিধনে কার্যকর কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না পৌর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে যত্রতত্র ময়লার স্তূপ জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং সেখান থেকে মশার উপদ্রব আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
 

পৌর শহরের বাসিন্দা মো.জুয়েল আহমেদ আক্ষেপ করে বলেন, ‘সন্ধ্যা তো দূরের কথা, এখন দিনের বেলাতেও ঘরে টেকা দায়। মশার কামড়ে ছোট বাচ্চাদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়। অথচ পৌরসভা থেকে কখন ওষুধ ছিটানো হয়েছে আমাদের মনে পড়ে না।’

একই এলাকার গৃহিণী সেলিনা আক্তার জানান, ‘আমাদের বাড়ির পাশের খালি জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা জমে রয়েছে। পৌর কর্তৃপক্ষ বর্জ্য পরিষ্কার না করায় সেখানে হাজার হাজার মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে। মশা তাড়াতে কয়েল জ্বালিয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না।’
 

পৌর বাজারের ব্যবসায়ী সেন্টু মিয়া বলেন, ‘সারাদেশে ডেঙ্গু নিয়ে এত হইচই অথচ পৌরসভায় মশা নিধনের কোনো উদ্যোগই দেখা যাচ্ছে না। পৌরসভার পক্ষ থেকে যদি এখনই ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো না হয়, তবে বড় ধরনের মহামারী দেখা দিতে পারে। তাছাড়া বাজারের ময়লা আবর্জনা আশে পাশেই ফেলা হচ্ছে সেখান থেকে দুর্গন্ধ ও মশার বংশ বিস্তার সহজ হচ্ছে।’
 
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায় হলো মশার প্রজননক্ষেত্র ধ্বংস করা এবং এডিস মশার বিস্তার রোধ করা। পৌর এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। শুধু রাজধানীতে থাকলেই ডেঙ্গু হতে পারে এমন ধারণা ঠিক নয়। মফস্বলে নিয়মিত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিধনে কার্যকর উদ্যোগও জরুরি।’
 

এদিকে সাধারণ মানুষের এমন অভিযোগের বিষয়ে আজমিরীগঞ্জ পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাফিজুর রহমানের মুটোফোনে একাধিক বার কল ও ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি কল রিসিভ করেননি।

আজমিরিগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, ‘আমরা নিয়মিতই মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করছি। যার ছবি ও তথ্য আমাদের দপ্তরে রয়েছে।’

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/মিলাদ/এসডি-০৮