‎​সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ অত্যন্ত জরুরি। গাছ কার্বন শোষণ, মাটির ক্ষয়রোধ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বড় ভূমিকা রাখে।"

তিনি আরও যুক্ত করেন, এলএসটিডি প্রকল্পের প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে আধুনিক ধানের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি সরাসরি কৃষকের মাঠে প্রদর্শন এবং স্থানীয় উপযোগীতা যাচাইয়ের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কৃষির আধুনিকায়নে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।
‎
‎বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) স্যাটেলাইট স্টেশন, সিলেটের উদ্যোগে ‘নতুন ০৬টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং বিদ্যমান গবেষণাগার উন্নয়ন (এলএসটিডি)’ প্রকল্পের আওতায় সিলেট সদর উপজেলার হাটখোলা ইউনিয়নের পাইকরাজ প্রযুক্তি গ্রামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‎
‎স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক উৎপাদন প্রযুক্তি জনপ্রিয়করণ, কৃষক পর্যায়ে গবেষণালব্ধ প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিলেটে এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, কৃষক সমাবেশ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


‎​এ সময় ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি প্রযুক্তি গ্রামের গবেষণা, প্রদর্শনী ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম তুলে ধরা হয়।

‎​অনুষ্ঠানে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে ও এলএসটিডি প্রকল্পের সাইন্টিফিক অফিসার হুর-ই-ফেরদৌসী তাজিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছিলেন সিলেটের বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মশিউর রহমান।

‎বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সিলেটের উপপরিচালক মো. শামসুজ্জামান। এছাড়াও বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ব্রির ওয়ার্কশপ মেশিনারি অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. মো. আফজাল হোসাইন এবং সিলেট সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শওকত জামিল।

‎​​বিশেষ অতিথি মো. শামসুজ্জামান তাঁর বক্তব্যে উদ্ভাবিত জাত ও প্রযুক্তির সুফল কৃষকের দ্বারে পৌঁছে দিতে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত প্রয়াসের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে কৃষকরা এক স্থানেই উন্নত ধানের জাত ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে পরিষ্কার ও বাস্তব ধারণা পাচ্ছেন।

‎​সভাপতির বক্তব্যে এলএসটিডি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, স্থানীয় মাটি, পানি, জলবায়ু ও কৃষকের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে উপযোগী ধানের জাত ও উৎপাদন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও জনপ্রিয় করাই এ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১৫টি প্রযুক্তি গ্রাম স্থাপন করা হয়েছে। তিনি কৃষিতে শ্রমসংকট ও উৎপাদন ব্যয় কমাতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার ও কম্বাইন হারভেস্টারের মতো আধুনিক কৃষি যন্ত্রের বহুল ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

‎​অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে অতিথিরা এবং স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীরা পাইকরাজ প্রযুক্তি গ্রামের গবেষণা প্লট ও রোপা আমন মৌসুমে ৫২টি ধানের জাত নিয়ে তৈরি ‘ব্রি রাইস গার্ডেন’ পরিদর্শন করেন। তাঁরা সেখানে সুষম সার ব্যবস্থাপনা, বায়ো-কোটেড ইউরিয়া, ন্যানো ইউরিয়া, লাইট ট্র্যাপ, ব্রি নিড়ানি যন্ত্র ও পানি ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেন এবং গবেষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

‎​মতবিনিময় সভায় কৃষক খিজির আহমদ বলেন, প্রযুক্তি গ্রামের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাঁরা স্থানীয় উপযোগী উচ্চফলনশীল ও রোগবালাইসহনশীল ধানের জাত নির্বাচন, মানসম্মত বীজের সহজলভ্যতা, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের দাবি জানান।

‎​সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এ ধরনের স্থানভিত্তিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন ও বৃক্ষরোপণের সমন্বিত প্রয়াস সিলেট অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-২৭