ছবি: সিলেট ভিউ গ্রাফিক্স।
সিলেট মহানগরীর চৌকিদেখী এলাকার বাসিন্দা যুক্তরাজ্য প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফি হত্যা মামলার সর্বশেষ আসামি আব্দুল মুহিত মায়েদকে জেল হাজতে প্রেরণ করে আদালত। দীর্ঘ ৯ মাস পলাতক থাকার পর গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জকিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালতে আত্মসমর্পণকারী আব্দুল মুহিত মায়েদ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার গঙ্গাজল গ্রামের মো. আব্দুছ ছাত্তারের ছেলে।
এর আগে, এই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রধান আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন এবং দ্বিতীয় আসামি মো. সাব্বির আহমদকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। প্রধান আসামি শোভন ওসমানীনগর থানার উছমানপুর গ্রামের সৈয়দ মহিবুর ছামাদ ওরফে শাহীনের ছেলে। আর দ্বিতীয় আসামি সাব্বির জকিগঞ্জ উপজেলার ইলাবাজ গ্রামের আব্দুস সামাদ দুলনের ছেলে।
জানা যায়, নিহত বুরহান উদ্দিন শফি প্রায় ৪০ বছর ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বসবাস করতেন। গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে তিনি সিলেট নগরীর চৌকিদেখী ১ নম্বর গলির নিজস্ব বাসায় ওঠেন। ৩০ জানুয়ারি কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তিনি।
এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বোন শাহ আছমা জাহান। নিখোঁজের চার দিন পর, ৩ ফেব্রুয়ারি জকিগঞ্জের একটি হাওর থেকে বুরহান উদ্দিন শফির (৫৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে এ ঘটনায় জকিগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তার বোন শাহ আছমা জাহান। মামলার প্রায় ২০ দিন পর এই বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি মামলা প্রধান আসামি সৈয়দ মেহরাজ উজ সামাদ ওরফে শোভন এবং ২য় আসামি মো. সাব্বির আহমদকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সর্বশেষ মামলার ৩নম্বর আসামি আব্দুল মুহিত মায়েদ দীর্ঘ ৯ মাস পলাতক থাকার পর গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) জকিগঞ্জ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বর্তমানে এ মামলার তিন আসামিই বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
নিহত বুরহান উদ্দিন শফির বোন ও মামলার বাদী শাহ আছমা জাহান বলেন, ‘এবার আমরা রাষ্ট্রের নিকট জড়িত সকল খুনির সর্বোচ্চ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি। ভাইকে হয়তো আমরা আর ফিরে পাব না, তবে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি হলে পরিবারের সদস্যরা কিছুটা শান্তি পাবেন।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০৫




