সিলেটে এক ব্যাংক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত মাে. সাজেদুল ইসলাম সাজু সিলেট জেলার জকিগঞ্জ থানার কালিগঞ্জ পূবালী ব্যাংক লিমিটেড শাখায় কর্মরত। তিনি ওই উপজেলার রহিমপুর গ্রামের মাে. সােহাগ মিয়ার ছেলে। তিনি নগরীর মাছিমপুর এলাকায় বসবাস করেন।

সাজেদুলের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এনে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন। মামলার পর সাজেদুলের সহযোগী মো. কলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কলিম জকিগঞ্জ উপজেলার গনিপুর গ্রামের মো. আবুল হোসেনের ছেলে। কলিমও নগরীর মাছিমপুর এলাকায় বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ, সিলেট নগরীর কালিঘাট এলাকার নুসরাত এন্ড ইসরাত স্টোর ও ইসরাত পেপার এড ফার্ম নামক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জসিম উদ্দিনের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ২ লক্ষ চাঁদা দাবি করে আসছেন সাজেদুল ও তার সহযোগিরা। চাঁদা না দিলে তারা জসিমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেন। এতে জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে সিলেট কোতয়ালি থানায় একটি জিডি এন্ট্রি দায়ের করেন জসিম। জিডি দায়েরের পর চাঁদাবাজরা আরও ক্ষিপ্ত ও বেপরোয়া হয়ে গত ৮ অক্টোবর নগরীর সুরমা মার্কেট এলাকায় জমিসকে একা পেয়ে তার মাথায় পিস্তল ধরে তাকে বেধড়ক মারপিট করে সাজেদুলরা। এসময় জসিমের কাছ থেকে নগদ টাকা ও মােবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনার পর জসিম সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিত্সা নিয়ে ফেরার পরপরই আবার গত ৩০ অক্টোবর সাজেদুল ও তার সহযোগিরা আবারও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জসিমের কাছে টাকা দাবি করেন এবং না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ ঘটনার পর গত ৩ নভেম্বর সাজেদুলকে প্রধান আসামি করে কোতয়ালি থানায় ছিনতাই ও চাঁদাবাজি মামলা (নং-১৭) দায়ের করেন জসিম।

মামলা দায়েরের পর গত ২০ নভেম্বর শাহপরাণ থানাপুলিশের সহায়তায় সিলেট কোতোয়ালি থানাপুলিশ অভিযান চালিয়ে নগরীর শাহজালাল উপশহর থেকে মামলার ৪ নং আসামি কলিম উদ্দিনকে গ্রেফতার করে। তিনি বর্তমানে কারাগারে আছেন।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার এস.আই রমাকান্ত দাস সিলেটভিউ-কে বলেন, জসিম উদ্দিনের মামলায় কলিম উদ্দিন নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি এখন কারাগারে রয়েছেন। বাকির আসামিরা বর্তমানে পলাতক, তবে তাদের ধরতে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

এদিকে, ‘হুমকি-ধমকি ও হয়রানিতে’ অতিষ্ট হয়ে সাজেদুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গত ২৩ নভেম্বর পূবালী ব্যাংকের সিলেট প্রধান শাখা ব্যবস্থাপক বরাবরে একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন ব্যবসায়ী জসিম।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাজেদুলের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম