এইডস রোগী বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের অজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপশি ধর্মীয় অনুশাসন বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এইডস রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার ৭৬১ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৫৮৮ জনের। মৃত্যুর হার ১৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। তবে, সরকারের গৃহীত কর্মসূচির আওতায় এইডস রোগীদের চিকিৎসার আওতা বাড়ছে। নেওয়া হয়েছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আশা করা হচ্ছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ হলে ২০৩০ সাল নাগাদ ৯৫ শতাংশ এইডস রোগীকে চিকিৎসার আওতায় আনা যাবে।
প্রাণঘাতী এ রোগ নিরাময়ে সরকারকে আরও বেশি পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। শনাক্তকরণ পরীক্ষা এবং আওতা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। বিশেষ করে, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী, অভিবাসী, পুশব্যাছক হওয়া লোকজন এবং এইডসপ্রবণ এলাকাগুলোর দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। করোনা পরীক্ষার মতোই সীমান্ত এলাকায় সবাইকে এইচআইভি টেস্টের আওতায় আনার পক্ষেও মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
জাতিসংঘের এইডস-বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইডসের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন এইডস রোগী মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক১ শতাংশ। বাংলাদেশে এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তির সংখ্যা ১৪ হাজারের বেশি। তবে, চিকিৎসার আওতায় আছেন মাত্র ৮ হাজার রোগী।
২০২১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ৫৮৮ জনের। এরপর এ বিষয়ে কোনো পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দেশে এইডস আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। নতুন রোগীদের বড় অংশই অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্য। আগে ঝুঁকিপূর্ণ চার ধরনের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নতুন রোগী বেশি পাওয়া গেলেও গত বছর সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণ বেড়েছে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬ হাজার ১০৪ জনকে চিকিৎসা সুবিধার আওতায় আনা গেছে। বাকি ১ হাজার ১২৫ জন সংক্রমিত ব্যক্তি এখনো চিকিৎসার বাইরে আছেন।
তবে, বাংলাদেশের জাতীয় এইডস/এসটিডি কন্ট্রোল বিভাগ দাবি করছে, আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবার আওতায় নিয়ে আসার হার প্রতিবছর বাড়ছে।
এইডস হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ২০১৯ সালে সচেতনতার হার ছিল ৫২ শতাংশ, যা ২০২১ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ শতাংশে। দুই বছর আগের চিকিৎসাসেবার আওতায় থাকা রোগী ছিল ৬৫ শতাংশ, বর্তমানে তা দাঁড়িয়েছে ৭৭ শতাংশে।
এদিকে, এ ধরনের রোগীর বাড়ার পেছনের কারণ হিসেবে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের অজ্ঞতাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। এজন্য সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপশি ধর্মীয় অনুশাসন বাড়ানোর তাগিদ দেয়া হয়েছে।
আশার আলো সোসাইটির সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়কারী মো. আব্দুর রহমান জানান, প্রবাসে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের এইচআইভি ভাইরাস ও এইডস সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। যে কারণে তারা এ ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন বেশি। আর দেশে এসে চক্ষুলজ্জার কারণে তারা বিষয়টি গোপন রাখেন। ফলে তা তাদের স্ত্রীদের মধ্যেও ছড়াচ্ছে। এ জন্য বিমানবন্দর এবং স্থলবন্দরগুলোতে এইচআইভি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের পরামর্শও দেন তিনি।
সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এইচআইভি সেবা জোরদারকরণ কার্যক্রমের ব্যবস্থাপক মো. মোতাহের হোসেন জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ওসমানী হাসপাতালে এমআরটি সেন্টার চালু রয়েছে। এ সেন্টার থেকে এ পর্যন্ত এইচআইভির ওষুধ ও অন্যান্য স্বাস্থসেবা নিচ্ছেন ৪৭৮ জন। এখানে এইচআইভি আক্রান্তদের ওষুধসহ সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা বিনামূল্যে দেয়া হয়ে থাকে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/কেআর/জিএসি-২৪




