সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ কাজী ম্যানশনে মার্কেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মালিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। সে দ্বন্দ্ব নিরসন ও সমস্যাগুলো সমাধানের লক্ষ্যে আজ (রবিবার- ৬ মার্চ) সন্ধ্যায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
সিলেট মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ এ বৈঠকের উদ্যোগ নিয়েছেন। কাজী ম্যানশনের অফিস কক্ষে আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিতব্য এ বৈঠকে মহানগর ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, কাজী ম্যানশনের মালিক কাজী ফারুক আহমদ ও মার্কেটের ব্যবসায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
বিষয়টি সিলেটভিউ-কে জানিয়েছেন মহানগর ব্যবসায়ী ঐক্য কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক।
গতকাল শনিবার সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ মার্কেট কাজী ম্যানশনের মালিক কাজী ফারুক আহমদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে তাকে মার্কেটে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা।
কাজী ম্যানশনের ব্যবসায়ীদের অভিযোগ- মার্কেটটির সকল দোকানে মালিক-কর্মচারী মিলিয়ে প্রায় ১২ শ মানুষ কাজ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে কাজী ম্যানশনে পানি ও স্যানিটেশন সমস্যা বিরাজ করছে। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মার্কেটে কোনো উন্নরয়নকাজ হচ্ছে না। বার বার কাজী ফারুকের কাছে এ বিষয়গুলো সুরাহার আবেদন জানালেও তিনি এ বিষয়ে ভ্রুক্ষেপ করছেন না। এ বিষয়ে সম্প্রতি কাজী ফারুকের সঙ্গে ব্যবসায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সে বৈঠকে কাজী ফারুক মার্কেটে গভীর নলকূপ বসানোসহ সকল সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দেন।
সেই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুক্রবার (৪ মার্চ) গভীর নলকূপ বসানোর কাজ শুরুর কথা ছিলো। কিন্তু কাজী ফারুক কাজ শুরু করাননি। উল্টো শুক্রবার বিকেলে কাজী ম্যানশনে এসে ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করেন। ঠিক এভাবে শনিবার সকালেও মার্কেটে এসে তিনি সাধারণ ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করেন এবং তার মার্কেট ছেড়ে চলে যেতে বলেন।
এ ঘটনায় মার্কেটের ব্যবসায়ী কমিটির নেতৃবৃন্দসহ সাধারণ ব্যবসায়ীরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং বেলা ২টার দিকে মার্কেটে সাধরণ ব্যবসায়ীদের নিয়ে কমিটির নেতৃবৃন্দ এক জরুরি বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকেও কাজী ফারুক হুট করে ঢুকে ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করতে শুরু করেন। এ ঘটনায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ব্যবসায়ীরা মার্কেটে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন। এসময় তারা ফারুক আহমদকে কাজি ম্যানশনে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেন এবং কোনো ভাড়া দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার একদল পুলিশ কাজী ম্যানশনে যায় এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত করে।
এ বিষয়ে কাজী ম্যানশনের ব্যবসায়ী সমিতির দীর্ঘ বছরের সভাপতি (বর্তমান) রাহেল আহমদ চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন, আমরা বার বার কাজী ফারুকের কাছে ধরনা দিয়েছি বিষয়গুলো নিয়ে। তিনি দেশের বাইরে থাকেন বেশিরভাগ সময়। ফোন করলেই বলেন- দেশে এসে সব করে দেবেন। সর্বশেষ আড়াই মাস আগে তিনি দেশে আসেন। দেশে আসার পর বার বার আমরা তার কাছে যাই। সম্প্রতি তিনি আমাদের প্রতিশ্রুতি দেন- গভীর নলকূপ বসানোসহ সকল সমস্যা সমাধান করে দেবেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী শুক্রবার কাজ শুরুর কথা ছিলো। কিন্তু কাজ শুরু করেন-ই নি, উল্টো শুক্রবার বিকেলে এবং শনিবার সকালে মার্কেটে এসে ব্যবসায়ীদের গালিগালাজ করেন। সর্বোপরি আমাদের বৈঠকের মধ্যে ঢুকে তিনি আমাকে বলেন- 'হু আর ইউ'! এ ঘটনায় এখন মার্কেটে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সবাই তাকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছে এবং মার্কেটের উন্নয়নকাজ না করে দিলে সবাই সকল বিল দেওয়া বন্ধ রাখবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাহেল আহমদ চৌধুরী আরও বলেন, পবিত্র রমজান আসন্ন। রমজান মাসে ইফতারের সময় পানি ও বাথরুমের সমস্যা প্রকট হয়। বছরের পর বছর ধরে কাজী ফারুকের কাছে বিষয়গুলো তুলে ধরলেও নানা টালবাহায় তিনি সময় ক্ষেপণ করেন এবং ব্যবসায়ীদের দাবি-দাওয়াকে বুড়ো আঙ্গুল দেখান। এবার তিনি সব সমস্যার সমাধান না করে দিলে তাকে মার্কেটে ঢুকতে দিবো না আমরা।
এ বিষয়ে জানতে কাজী ফারুক আহমদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




