দাম্পত্য জীবনে নবজাতকের আগমন মা-বাবার জন্য পৃথিবীর সবচেয়ে খুশির খবর। খুশির এ খবরটি শুধুমাত্র পরিবারের মাঝে সীমাবদ্ধ থাকে না বরং বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজনের জন্যেও শিশুর জন্ম আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে। সকল মা-বাবাই মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা করেন যেন আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে একটি সুস্থ সবল শিশু দান করেন।

আর একটি সুস্থ সবল নবজাতক শিশুর জন্মের পিছনে মা-বাবার অপরিসীম ভুমিকা পালন করতে হয়। নরমাল ডেলিভারির পিছনে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ডাক্তার, সেবিকা ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীর প্রয়োজন পড়ে। একই সঙ্গে এতগুলো সুযোগ-সুবিধা পেতে হলে নবজাতকের জন্মের পূর্বে মা'য়ের প্রসব ব্যাথা ওঠার সাথে সাথে যেতে হবে নিকটস্থ সরকারি ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রে।


আর একটি সুস্থ সবল নবজাতক শিশু পাবার জন্য সরকারের ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ কেন্দ্রমূখী করতে নবজাতক শিশুর মা-বাবাকে উৎসাহ দেয়ার লক্ষে এক ব্যতিক্রমী মহতি উদ্যোগ নিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ফারুক আহমদ।

তিনি প্রাথমিক ভাবে গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর, পশ্চিম জাফলং ও ডৌবাড়ী ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে সদ্য জন্ম নেয়া ৬০ জন শিশু এবং মায়ের জন্য বাবার হাতে তুলে দিলেন উপহার সামগ্রী।

রবিবার (৬ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয়ে উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের ৬০ জন নবজাতক ও মায়েদের জন্য উপহার সামগ্রীর সূচনা করেন তিনি।

উপহার সামগ্রী গুলোর প্রতিটি প্যাকে রয়েছে- ১ টি জামা, ১টি তোয়ালে, ১টি সাবান, ১ প্যাকেট মাস্ক এবং মানসম্মত একটি কমল।

এসময় তিনি বলেন, স্বাধীনতার এ মাসে রুস্তমপুর ইউনিয়নের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র ৩০টি, ডৌবাড়ী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ১৫টি এবং ফতেহপুর ইউনিয়নস্থ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের ১৫টি উপহার সামগ্রী উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. বদরুল ইসলাম’র কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ এখন থেকে প্রতি মাসে উপজেলার যে সকল স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ডেলিভারি ব্যাবস্থা চালু রয়েছে সে গুলোতে আমার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি বন্ধ থাকা স্বাস্থ্য কেন্দ্র গুলো খুব শীগ্রই চালু করার প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থ করা হবে।

উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুর রহমান বলেন, অদক্ষ এবং গ্রাম্য দাত্রীদের বেপরোয়া দৌরাত্ম্যের কারণে সরকারী সকল সুযোগ সুবিধা থেকে আমাদের মা-বোনেরা বঞ্চিত হওয়ার কারণে বাচ্চা প্রস্রবকালে অনেক সময় মা কিংবা নবজাতকের মৃত্যু হয়ে থাকে। এজন্য আমাদের আরও সচেতনতা অবলম্বন করে গ্রাম্য দাত্রীদের পরিহার করে সরকারের দেওয়া ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রমূখী হতে হবে। এক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও প্রতিনিধিদল আন্তরিকতার সহিত কাজ করে যাচ্ছে। কোন অবস্থাতেই বাড়িতে দাত্রী দিয়ে ডেলিভারি না করে সাথে সাথে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গিয়ে মানসম্মত চিকিৎসা গ্রহণ করলে মা এবং নবজাতক নিরাপদ থাকবে।

অনুষ্ঠানে এসময় উপস্থিত ছিলেন- গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিলুল রহমান, মা মণি প্রকল্পের গোয়াইনঘাট উপজেলা সমন্বয়কারী মোস্তাক আহমদ শায়েম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ইউএফপিএ আখলাকুল আম্বিয়া, জোবায়ের আহমদ প্রমূখ।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/এমএএম/এসডি-১৩